প্রশ্ন জলবৎ তরলং / ৯ বছর পর এসএসসি নির্বিঘ্নে পরীক্ষা, পরের পরীক্ষাও স্বচ্ছ হবে: ব্রাত্য
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর: দীর্ঘ ৯ বছর পর রাজ্যে হল এসএসসি বা স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। রবিবার এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে সাজ সাজ রব ছিল। পরীক্ষার নিরাপত্তায় বিভিন্ন রকম সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয় রাজ্য সরকার। বিশেষ করে প্রশ্ন ফাঁস আটকাতে অতিরিক্ত তৎপর ছিল প্রশাসন। দুর্নীতির অভিযোগে কয়েক মাস আগে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। তারপর জল অনেকদূর পর্যন্ত গড়ায়। এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো পরীক্ষা হল এদিন। রবিবারের পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও আধিকারিকদের শুভেচ্ছা জানান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
জানা গিয়েছে, এদিন রাজ্যে মোট ৬৩৬টি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ চাকরি প্রার্থী নবম ও দশম শ্রেণির জন্য পরীক্ষা দিয়েছেন। আগামী রবিবার একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির এসএসসি হবে। সেটাও যাতে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেই আশা ব্যক্ত করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। সেই অনুযায়ী দু’দফায় এসএসসি পরীক্ষার বন্দোবস্ত করা হয়। আগামী রবিবার ১৪ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষায় যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনভিপ্রেত পরিস্থিতি না হয়, সে বিষয়ে রাজ্য প্রশাসন এবং এসএসসি কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে।
• পরীক্ষার আগের দিন এসএসসি’র চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার জানিয়েছিলেন, প্রত্যেক পরীক্ষাকেন্দ্রে স্ক্যানার থাকবে। প্রশ্ন ফাঁস রুখতেও একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে ফাঁস করার চেষ্টা করলে তা জানতে পারা যাবে। তবে এদিনের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বা অন্য কোনরকম ত্রুটি দেখা যায়নি। তাই খুশি সব মহলই। প্রশ্ন এতটাই সহজ হয়েছে যে, পরীক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়েছে। তাই এদিন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে হাসিমুখেই বেরিয়ে এলেন পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের কোনও অভিযোগ নেই।
•
প্রায় ৩ লক্ষ ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী থাকলেও এদিন ৯১ শতাংশ বা ২ লক্ষ ৯০ হাজার পরীক্ষা দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, গরহাজির থাকা প্রায় ৩০ হাজার প্রার্থীর সিংহভাগই ভিন রাজ্যের বাসিন্দা। তবে এদিন কোথাও কোথাও ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের অনেকেই এদিন প্রতিবাদ জানাতে কালো পোশাক পরে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো অযোগ্য প্রার্থীরা যাতে ফাঁকতালে পরীক্ষায় বসে পড়তে না পারেন, তার জন্য তাঁদের নাম সব পরীক্ষাকেন্দ্রে লাল কালিতে লেখা ছিল। যদিও অ্যাডমিট কার্ডের বারকোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে বৈধতা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল। তবে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যাতে কেউ ছাড় না পেয়ে যান, সেদিকে কড়া নজরদারি ছিল।








