প্রতিবন্ধী যুবকের হাতে হুইলচেয়ার ও নতুন বস্ত্র তুলে দিলেন স্বেচ্ছাসেবকরা
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়ি:
মানবিকতার এক অন্যান্য নজির করলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা-২ নং ব্লকের ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁচাখাওয়া উত্তর ক্ষেতী এলাকার বাসিন্দা প্রতিবন্ধী যুবক সুমন্ত বর্মনের হাতে হুইলচেয়ার ও নতুন বস্ত্র তুলে দিলেন এক স্বেচ্ছাসেবক ও তার বন্ধুবান্ধবরা। দীর্ঘ পাঁচ বছর গৃহবন্দী অবস্থায় কাটানো এই যুবকের মুখে অবশেষে ফুটল অফুরন্ত হাসি।
৩৮ বছর বয়সী সুমন্ত চলাফেরা করতে না পারার কারণে বাড়িতেই বন্দী জীবনযাপন করছিলেন। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে পাঁচ সদস্যের সংসারে তার দায়িত্ব অনেক। বহু চিকিৎসার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা হয়নি তার। শিলিগুড়ি থেকে শুরু করে জলপাইগুড়ি এমনকি প্রতিবেশী দেশ নেপালেও চিকিৎসা করানো হয়েছে, কিন্তু তেমন ফল মেলেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গৃহবন্দী জীবন মেনে নিতে হয়েছে।
হুইলচেয়ারের জন্য বহুবার স্থানীয় পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের দারস্থ হয়েছে পরিবার, কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। যদিও প্রতিবন্ধকতার ভাতা পান তিনি, তবু চলাফেরার স্বাধীনতা ছিল অধরাই। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় এক মাস আগে এলাকারই এক স্বেচ্ছাসেবক নারায়ণ অধিকারী সুমন্তের অবস্থা জানতে পেরে উদ্যোগ নেন। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধুবান্ধবদের সহায়তায় এক হুইলচেয়ার সংগ্রহ করেন তিনি।
অবশেষে সুমন্তের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে নারায়ণ অধিকারী ও তার বন্ধুরা হুইলচেয়ারটি তুলে দেন। সঙ্গে ছিল নতুন পোশাকও। এই মুহূর্তে আবেগে ভেসে ওঠে গোটা পরিবার। হুইলচেয়ারে বসে বহুদিন পর বাড়ির বাইরে বেরিয়ে প্রকৃতির হাওয়া অনুভব করেন সুমন্ত। আনন্দের সেই মুহূর্তে তার মুখে ছিল অফুরন্ত হাসি।
সুমন্তের পিতা মহেশ বর্মন বলেন, “ছেলেকে নিয়ে অনেক চিকিৎসা করিয়েছি। নিজে দিনমজুরি করে চিকিৎসার খরচ চালাতে হয়েছে। হুইলচেয়ারের জন্য বহুবার আবেদন করেও কিছু মেলেনি। আজ নারায়ণ বাবু এবং তার বন্ধুরা যে কাজটি করলেন, তা সত্যিই অতুলনীয় আমরা সকলেই খুবই খুশি।








