ওভারলোড ডাম্পার রুখতে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়ি:
“ডাম্পার দেখলেই আটকে রাখুন, সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দিন”। ভারলোডিং ডাম্পারের দাপাদাপিতে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীদের এখন একটাই দাওয়াই। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করেই গ্রামের রাস্তায় দেদার চলছে অতিরিক্ত বোঝাই ডাম্পার ও লরি। তার জেরে ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে গোটা এলাকা, নাজেহাল হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পুলিশ ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরমারি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্ব আলতাগ্রাম এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঝুমুর এলাকা থেকে বিনয়িসা মোড় পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার রাস্তার সংস্কারের কাজ শুরু হলেও অজ্ঞাত কারণে সেই কাজ মাঝপথেই বন্ধ রয়েছে। সেই অসম্পূর্ণ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন গ্রামের ভেতর দিয়ে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই ডাম্পার ছুটে চলেছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে গ্রামের রাস্তায় ওভারলোডিং ডাম্পার ঢুকবে না। অথচ পুলিশের নাকের ডগায় বালি ও পাথর বোঝাই ভারী গাড়ির অবাধ চলাচল চলছে। এর ফলে রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ধুলোর আস্তরণে ঢেকে যাচ্ছে বাড়িঘর, গাছপালা এমনকি মানুষের শরীরও।
ধুলোর জেরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। দিনের বেলায় খেতে বসলে খাবারের মধ্যেও ধুলো পড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় গ্রামে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।
এই অবস্থায় শুক্রবার ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে দেন। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, হায়দার আলী নামে এক বালি ব্যবসায়ী ওই রাস্তা দিয়েই নিয়মিত ডাম্পারে বালি পরিবহণ করছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত গ্রামবাসীরা পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। গ্রামবাসীদের স্পষ্ট দাবি অবিলম্বে ওভারলোডিং ডাম্পার চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং রাস্তার সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে। নচেৎ আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।








