ব্রিটিশ কারাগারে দুর্গাপূজার শতবর্ষ উপলক্ষে হুগলী জেলা সংশোধনাগারে নানা অনুষ্ঠান
আব্দুল গফফার, নতুন পয়গাম, হুগলী:
পরাধীন ভারতবর্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ব্রিটিশের কারাগারে বন্দীজীবন তাঁদেরকে দুর্গার আরাধনা থেকে বিরত করতে পারেনি। কালক্রমে সেই দুর্গাপুজোর শতবর্ষ পূর্ণ হল চলতি ২০২৫-এ। মূলত ব্রিটিশ কারাগারে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর উদ্যোগে এই দুর্গাপূজা শুরু হয়েছিল। ইতিহাস পরিক্রমায় জানা যায়, ১৯২৫ সালে বর্তমান মায়ানমারের মান্দালয় কারাগারে প্রথম দুর্গোৎসবের আয়োজন হয়েছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু’র উদ্যোগে। তাঁর অনমনীয় ও সুদৃঢ় মানসিকতা মান্দালয় কারাগারে আটক অন্যান্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সক্রিয় সমর্থনে দুর্গাপুজোর অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়। এই কারাগারে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গেই বন্দী ছিলেন হুগলী-চুঁচুড়ার স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক জ্যোতিষচন্দ্র ঘোষ। মান্দালয় কারাগারের অধীক্ষক মেজর ফিল্ডলে ভারতীয়দের পুজো করার দাবির প্রতি সহানুভূতি সম্পন্ন থাকলেও ব্রিটিশ সরকার প্রাথমিকভাবে তা নাকচ করে দেয়। অথচ ওই কারাগারে আটক খ্রিস্টানদের বড়দিনের উৎসব পালনে অনুমতি দেওয়া হয় এবং তার জন্য ১২০০ টাকা মঞ্জুরও করা হয়। এই বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে নেতাজির নেতৃত্বে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দলবদ্ধভাবে আমরণ অনশন শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার নতজানু হয়ে পুজোর অনুমতি দিতে বাধ্য হয়। পুজোর খরচা বাবদ রাজনৈতিক বন্দীদের প্রাপ্য অর্থ থেকে ৬৬০ টাকা বরাদ্দ করা হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মান্দালয় কারাগারে ১৯২৫ সালে দুর্গোৎসব ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গৌরবময় ইতিহাসের পর্ব। পরবর্তীকালে এই ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে হুগলী জেলা কারাগার ও আন্দামানের সেলুলার জেলেও দুর্গাপুজো হয়। হুগলী কারাগার বর্তমানে সংশোধনাগারের সামনের প্রাঙ্গণে এখনও সেই পুজো প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, এই কারাগারে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, চিত্তরঞ্জন দাশের পুত্র চিররঞ্জন দাশও বন্দী ছিলেন। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণে রাখতে হুগলী জেলা সংশোধনাগারের সম্মুখে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর দিনটা পালন করে হুগলী জাতীয় বিদ্যামন্দির বাঁচাও কমিটি।
বস্তুত, প্রতি বছরের মতো এবারও হুগলী জেলা সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছে। এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন হুগলীর সাংসদ রচনা ব্যানার্জী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সপ্তগ্রামের বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত, সদর হুগলীর মহকুমা শাসক স্মিতা সান্যাল শুক্লা, হুগলী-চুঁচুড়ার পৌরপ্রধান অমিত রায়, হুগলী জিলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নির্মাল্য চক্রবর্তী, পৌরমাতা সুপর্ণা সেন, হুগলী জেলা সংশোধনাগারের অধ্যক্ষ-সহ অন্যান্য পুলিশকর্তারা। হুগলী জাতীয় বিদ্যামন্দির বাঁচাও কমিটির সভাপতি এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী আশিষ সেন জানান, এই দুর্গোৎসবের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই আয়োজন। এদিন দুস্থ ও আর্ত মানুষ-সহ বন্দীদের হাতে সাংসদ রচনা ব্যানার্জী পুজোর উপহার হিসেবে বস্ত্র তুলে দেন।








