ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি
নতুন পয়গাম, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুন্দরবন: রাজ্যের সবচেয়ে ছোট দ্বীপ ও ক্ষুদ্রতম পঞ্চায়েত হিসেবে পরিচিত ঘোড়ামারা দ্বীপ-কে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ দিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। দ্বীপের ভাঙন রোধ এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সংরক্ষণের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আগামী তিন মাসের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে। জানা গেছে, দ্বীপটির ভাঙনের পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত হয়েছে– ভূতাত্ত্বিক অবস্থান, বিশেষত বেঙ্গল বেসিনের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হেলে থাকা ভূপ্রকৃতি, পাশাপাশি বিশ্ব উষ্ণায়ন, ঘূর্ণিঝড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
কমিটিতে থাকবেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক-এর ভুবনেশ্বর আঞ্চলিক দপ্তরের ডিজি (ফরেস্ট) এবং রাজ্যের প্রধান বনপাল। তাঁরা ভাঙন প্রতিরোধ, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের বাস্তবসম্মত উপায় খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি কোন সংস্থার মাধ্যমে, কত অর্থ ব্যয়ে এবং কত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব– তার সুপারিশও দিতে হবে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬৯ সালে দ্বীপটির আয়তন ছিল ৮.৫৯ বর্গ কিলোমিটার, যা ২০১৯ সালে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩.৮৩ বর্গ কিলোমিটারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ২০৪২ সালের মধ্যে দ্বীপটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা বলেন, “সঠিকভাবে কাজ হলে ঘোড়ামারা-সহ গোটা সুন্দরবন অঞ্চলেরই উপকার হবে। স্থায়ী কংক্রিট বাঁধ নির্মাণ করা গেলে ভাঙন অনেকটাই রোধ করা সম্ভব।”
ঘোড়ামারা পঞ্চায়েত প্রধান আম্বিয়া খাতুন বিবিও আশাবাদী– এই উদ্যোগ সফল হলে দ্বীপবাসীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, প্রশাসনিক উদ্যোগ, বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ একসঙ্গে কার্যকর হলে তবেই ঘোড়ামারা দ্বীপকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা করা সম্ভব।








