গ্রীনল্যান্ডে বিরল খনিজের প্রতি লোভ ট্রাম্পের
নতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন:
গ্রীনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ‘ট্যানব্রিজ’ খনিতে বিরল খনিজ সম্পদের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন কোম্পানি ‘ক্রিটিক্যাল মেটালস কর্পোরেশন’-এর মালিকানাধীন এই প্রকল্পে ট্রাম্প সরকার অংশীদার হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হোয়াইট হাউসের কৌশলগত পদক্ষেপ; সরাসরি গ্রীনল্যান্ডকে দখল করার চেষ্টা না করে ওয়াশিটংন কৌশলে বিপুল খনিজ সম্পদের ভান্ডারের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।
এসব বহু মূল্যবান বিরল খনিজ সম্পদ আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে অপরিহার্য উপাদান। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জামে এসব খনিজ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এই খাতে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজতে আগ্রহী, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
গ্রীনল্যান্ডের বরফের পুরু চাদরের নিচে রয়েছে বিপুল খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম ও বিরল খনিজের বিশাল মজুদ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রকল্প হল ট্যানব্রিজ, কভানেফজেল্ড এবং সারফারটক। ট্যানব্রিজে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন টন বিরল খনিজ অক্সাইড মজুদ আছে, যেখানে ২০২৮ সালে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। কভানেফজেল্ডে ১ বিলিয়ন টনেরও বেশি আকরিক মজুদ থাকলেও ইউরেনিয়াম খননে নিষেধাজ্ঞার কারণে উন্নয়ন আটকে আছে। সারফারটক প্রকল্পে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার টন বিরল খনিজ অক্সাইড মজুদ রয়েছে, যা নিয়ে এখনো অনুসন্ধান চলছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব খনিজ সম্পদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ কেবল বাণিজ্যিক নয়; বরং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নতুন প্রচেষ্টার অংশ। গ্রীনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ ভাণ্ডার ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।








