গাজা যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর নতুন শান্তি প্রস্তাব, বিশ্বনেতাদের সমর্থন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নতুন পয়গাম, নিউইয়র্ক
হোয়াইট হাউসের স্টেট ডাইনিং রুমে ট্রাম্পের হাসি এবং নেতানিয়াহুর দৃঢ় দৃষ্টির মাঝে গাজার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসানের আশা জাগছে। সোমবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ২০ দফা বিস্তারিত শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেন, যা দু’বছরের রক্তাক্ত সংঘাতকে শেষ করে গাজাকে নতুন জীবন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। “আমরা খুব কাছে, এমনকি তারও অতীত,” ট্রাম্প বলেন, যেন এটি শুধু একটি চুক্তি নয়, বরং ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। নেতানিয়াহু যোগ করেন, “এটি আমাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করবে—সকল জিম্মি ফিরিয়ে আনবে, হামাসের সামরিক ক্ষমতা ভেঙে দেবে এবং গাজাকে আর কোনো হুমকি করবে না।”
প্রস্তাবের মূলে রয়েছে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাসের হাতে বন্দি সকল ইসরায়েলিকে মুক্তি এবং পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার। হামাসের যারা শান্তি ও অস্ত্রত্যাগের প্রতিশ্রুতি দেবে, তাদের ক্ষমা দেওয়া হবে; অন্যরা নিরাপদে গাজা ছাড়তে পারবে। গাজায় একটি টেকনোক্র্যাটিক প্যালেস্টাইনীয় কমিউনিটি অস্থায়ী শাসন চালাবে, যার উপর নজর রাখবে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’—যাতে যুক্ত হবেন প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারসহ আন্তর্জাতিক নেতারা। এছাড়া, রাফাহ ক্রসিং উন্মুক্ত, জল-বিদ্যুৎ-পানি পুনরুদ্ধার এবং হাসপাতাল-বেকারি পুনর্নির্মাণের জন্য তাৎক্ষণিক মানবিক সাহায্যের প্রবাহ। গাজাকে ‘ডির্যাডিকালাইজড’ অঞ্চলে রূপান্তরিত করে ‘ট্রাম্প ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান’-এর মাধ্যমে হাই-টেক শহরে পরিণত করার স্বপ্নও দেখানো হয়েছে।
এই প্রস্তাব বিশ্বনেতাদের কাছে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, “এটি যুদ্ধ শেষ করে গাজায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করতে পারে।” স্পেনের পেড্রো সানচেজ টুইট করে লিখেছেন, “এত কষ্টের অবসান ঘটাতে হবে।” ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কোস্তা ‘দুই-রাষ্ট্র সমাধান’-কে একমাত্র পথ বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আরব দেশগুলো—সৌদি, মিশর, জর্ডান—সমর্থন জানালেও পশ্চিম তীরের অধিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্কবাণী করেছে। টনি ব্লেয়ার বলেন, “ট্রাম্পের সাহসী পরিকল্পনা শান্তি, স্বস্তি এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”
কিন্তু হামাসের প্রতিক্রিয়া অজানা—তারা বলেছে, লিখিত প্রস্তাব পায়নি এবং এটি ‘আমেরিকান-ইসরায়েলি চক্রান্ত’। ইসলামিক জিহাদ এটিকে ‘আঞ্চলিক বিস্ফোরণের রেসিপি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, “হ্যাঁ বললে শান্তি, না বললে আমরা চাকরি শেষ করব।” নেতানিয়াহু যোগ করেন, “সহজ পথ বা কঠিন পথ—দুটোই করতে হবে।” ইসরায়েলি বিরোধী নেতা ইয়াইর ল্যাপিডও সমর্থন করেছেন, বলেছেন এটি জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধের অবসানের ভিত্তি।
যুদ্ধের দ্বিতীয় বার্ষিকী কাছে এসে দাঁড়ালেও, এই প্রস্তাব কি সত্যিই গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে আশা জাগাবে? বিশ্ব নেতাদের সমর্থন সত্ত্বেও, হামাসের উত্তরই চাবিকাঠি। এটি কি শান্তির সেতু, নাকি নতুন দ্বন্দ্বের বীজ? সময়ের পরীক্ষায় উত্তর মিলবে।








