তালিবানের কাছে বাগরাম ঘাঁটি ফেরত চাইলেন ট্রাম্প
নতুন পয়গাম, কাবুল,
১৯ সেপ্টেম্বর: কথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অছিলায় টানা প্রায় দুই দশক ধরে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, লেবানন ইত্যদি দেশগুলোকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করা হয়। ২০ বছর ধরে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর অবশেষে ২০২১ সালের ১৪ আগস্ট আফগানিস্তান ছেড়েছিল মার্কিন সেনা। বিনা রক্তপাতে পালাবদল হলে ক্ষমতায় ফিরে আসে তালিবান। তবে মাত্র ৪ বছরের ব্যবধানে ফের কাবুলিওলার দেশের দখল চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প!
এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে আমেরিকার দাবি, আফগানিস্তানের বগরাম সেনাঘাঁটি ফরে তাদের হাতে তুলে দিক তালিবান সরকার। যদিও আফগানিস্তানের মাটিতে ফের মার্কিন সেনার পদধ্বনি শুনতে চায় না তালিবান। আমেরিকার দাবি স্পষ্ট ভাষায় পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের তরফে জানানো হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাইছেন আফগানিস্তানের বাগরাম বায়ুসেনা ঘাঁটি ফেরত পেতে। মূলত চীনের আধিপত্য রুখতে কূটনৈতিক দিক এই ঘাঁটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের কথায়, আমরা তালিবানকে বিনামূল্যে এই বিমানঘাঁটি বিলিয়ে এসেছি। আফগানিস্তানে ফেলে আসা প্রতিটি জিনিস আবার আমাদের বুঝে নেওয়া উচিত। বাগরাম বায়ুসেনা ঘাঁটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি এর রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৩৬০০ মিটার। কার্গো বিমান থেকে সমস্ত বোমারু বিমান এখানে অবতরণ করতে পারে।
পাশাপাশি এটি এমন জায়গায় অবস্থিত যেখান থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে চিন পরমাণু মিসাইল তৈরি করে। অর্থাৎ চিন-সহ পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে নজরে রাখতেই সামরিক দিক থেকে আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটি। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলে মার্কিন সেনা ঘাঁটি গাড়লে প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়ার উপরেও নজর রাখা সহজ হবে।
তবে আমেরিকার হাতে গুরুত্বপূর্ণ এই সেনাঘাঁটি তুলে দিতে একেবারেই নারাজ তালিবান। আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জাকির জালাল সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, আমেরিকার উচিত আফগানিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চলা। কিন্তু তার অর্থ এটা নয় যে আফগানিস্তানে ফের আমেরিকার সেনা আসবে। এখানে মার্কিন সেনার কোনও জায়গা নেই। আমরা আফগানিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চাই। তবে সেটা একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই সম্ভব।








