তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই রাজনীতিতে এসেছে : হাসিবুল ইসলাম
নতুন পয়গাম, সামসেরগঞ্জ, ১২ জানুয়ারি: সংবিধান রক্ষা, মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার, ওবিসি অধিকার এবং ওয়াকফ সম্পত্তি সুরক্ষার দাবিতে রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে ধারাবাহিকভাবে ‘বৈষম্য বিরোধী সমাবেশ’ আয়োজন করছে সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এসডিপিআই)। ইতিপূর্বে মালদা জেলার বৈষ্ণবনগর এবং মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘী, ডোমকলের পর আজ সামসেরগঞ্জ বিধানসভার কাকুরিয়া ফুটবল ময়দানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম তীব্র ভাষায় জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান ও স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কদের কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন- তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা জনগণের সেবা করার জন্য নয়, নিজেদের অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই রাজনীতিতে এসেছে। সত্যিই যদি তারা জনগণের প্রতিনিধি হতেন, তাহলে নির্যাতিত পরিযায়ী শ্রমিকদের ইস্যু সংসদে তুলে ধরতেন এবং জবাবদিহি করতেন।
তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অসহায় অবস্থা তৃণমূল সরকারের চোখে পড়ে না। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ভাঙন প্রতিরোধের কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। বর্ষাকালে নামমাত্র কাজ শুরু করে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, “নদীভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে রাজ্য জলসম্পদ দফতরে ডেপুটেশন দিতে গেলে জবাব দেওয়ার সক্ষমতা না থাকায় সংশ্লিষ্ট আধিকারিক পালিয়ে যায়।” তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আজ সময় এসেছে মুর্শিদাবাদ জেলার প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটানোর—চাকরি, শিক্ষা, জীবিকা থেকে শুরু করে জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে যে বৈষম্য চলছে, তা ধ্বংস করার। তিনি জানান, সামাজিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই বৈষম্যের অবসান সম্ভব, আর ভারতবর্ষের মাটিতে এই অঙ্গীকার একমাত্র এসডিপিআই-ই নিয়েছে।
সামসেরগঞ্জের মাটিতে ওয়াকফ আন্দোলন নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া হুঁশিয়ারির তীব্র বিরোধিতা করে তিনি ঘোষণা করেন,
“সামসেরগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ ও সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে এসডিপিআই-এর নেতা-কর্মীদের প্রাণ থাকা পর্যন্ত ওয়াকফ আন্দোলন চলবে।” এ প্রসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সামসেরগঞ্জ সফরের সমালোচনা করে বলেন, হরগোবিন্দ ও চন্দন দাসের বাড়িতে গেলেও ইজাজের বাড়িতে না যাওয়া স্পষ্টভাবে সাম্প্রদায়িক মানসিকতার পরিচয় বহন করে। নদীভাঙন সমস্যাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সামসেরগঞ্জ বিধানসভা সম্পাদক নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন- সামসেরগঞ্জের মাটিতে তৃণমূল সরকার সামান্যতম উন্নয়নও করতে পারেনি। যদি তাদের বুকে সাহস থাকে, তাহলে এসডিপিআই-এর নেতৃত্বের সঙ্গে প্রকাশ্য বিতর্কে বসুক”- এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি।
উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি মো. জাকির হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, মুসলিম সমাজকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখার চিত্র আজ আর অজানা নয়। শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে একের পর এক বাধা সৃষ্টি করে একটি পুরো সম্প্রদায়কে মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই লড়াই কোনও একটি সম্প্রদায়ের নয়- এটি ন্যায়, সমতা ও সংবিধান রক্ষার লড়াই।” রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ডা. কামাল বাসিরুজ্জামান পার্টির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকল প্রকার বৈষম্য উপড়ে ফেলে একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক এমদাদুল হক, দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ জেলা সাধারণ সম্পাদক আসিব সেখ, সামসেরগঞ্জ বিধানসভা সভাপতি আলাউদ্দিন শেখ এবং সুতি বিধানসভা সভাপতি এমদাদুল ইসলাম।








