শত্রু দেশের নাটক দেখার অপরাধে তিন কিশোরীর ফাঁসি?
নতুন পয়গাম, পিয়ংইয়ং: বিদেশি সংস্কৃতি দেখার অভিযোগে উত্তর কোরিয়ায় তিন স্কুলপড়ুয়া কিশোরীকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কোরিয়ান নাটক ও কে-পপ গান দেখার ‘অপরাধে’ ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সি ওই ছাত্রীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টির রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা অন্তত ২৫ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বর্ণনায় জানা গিয়েছে, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় জনসমক্ষে স্কুলপড়ুয়াদের ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার নাটক, বিদেশি গান, বিশেষ করে জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড BTS-এর গান শোনা বা দেখা উত্তর কোরিয়ায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কোনও বিচার ছাড়াই কঠোর শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
উত্তর কোরিয়ায় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কী ধরনের চুলের স্টাইল রাখা যাবে থেকে শুরু করে কী শোনা বা দেখা যাবে সবই রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত। দক্ষিণ কোরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় সংস্কৃতির কোনও উপাদান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চোরাপথে পেন ড্রাইভের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার নাটক বা সিরিজ উত্তর কোরিয়ায় ঢুকছে বলে দাবি করেছেন পালিয়ে আসা নাগরিকরা। সীমান্তবর্তী ইয়াংগ্যাং ও শিনুইজু অঞ্চলে এই ধরনের নজরদারি ও শাস্তির ঘটনা বেশি ঘটছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন পালিয়ে আসা নাগরিক জানিয়েছেন, পুলিশের নজর এড়াতে মোটা অঙ্কের ঘুষই একমাত্র উপায়। যদিও তাতেও অনেককে ‘রি-এডুকেশন ক্যাম্পে’ পাঠানো হয়, যেখানে রাষ্ট্রীয় মতাদর্শ শেখানো হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি রিজিওনাল ডিরেক্টর সারাহ ব্রুকস বলেন, “এই সাক্ষ্যগুলি স্পষ্ট করে দেয় যে উত্তর কোরিয়ায় নাগরিক অধিকার বলে কার্যত কিছু নেই। কোরিয়ান নাটক বা গান দেখার মতো বিষয়েও সেখানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।” উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।








