আত্মীয়ের নাম থাকাদেরই বেশি ডাকা হবে এসআইআর শুনানিতে
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এবার অপেক্ষা খসড়া তালিকা প্রকাশ এবং শুনানির জন্য প্রস্তুতিপর্ব। নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে, এনুমারেশন ফর্ম জমা দিলেই কাজ শেষ নয়, তথ্য নিয়ে সন্দেহ হলেই ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে। এমনকি খসড়া তালিকায় নাম উঠে গেলেও তা ‘নিশ্চিন্ত হওয়ার সনদ’ নয়।
কমিশন সূত্রের খবর, এ বছর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে দু-ধরনের ম্যাপিংয়ে। প্রথমটি সেল্ফ ম্যাপিং অর্থাৎ যাঁদের নাম ২০০২ সালের পুরনো ভোটার তালিকায় ছিল। দ্বিতীয়টি প্রজেনি ম্যাপিং যাঁরা নিজেদের নাম তুলতে বাবা-মা, দাদা-দিদিমা বা অন্যান্য আত্মীয় পরিজনের নাম উল্লেখ করেছেন। প্রজেনি ম্যাপিংয়ের সংখ্যা প্রায় তিন কোটিরও বেশি আবেদন এই বিভাগে পড়েছে।
পর্যবেক্ষক ও কমিশনের একটি বিশেষ টিম ইতিমধ্যেই এই আবেদনগুলির তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। কার নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তার সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক কী, নথিতে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও ক্ষেত্রে সামান্যতম সন্দেহ দেখা দিলেই সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে।

বিএলও-দের জন্য নতুন ফিচার: ভোটার তালিকা ডিজিটাইজেশনের সময়সীমা শেষ হলেও বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। তাদের অ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে একটি নতুন ‘ফটো ম্যাচিং বাটন’, যার সাহায্যে তাঁরা দেখতে পারবেন দু-একজন ভোটারের ছবি কি একই রকম? ছবির অস্বাভাবিক মিল থাকলে তা চিহ্নিত করে কমিশনে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন এত কড়া নজরদারি? ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। তাই আত্মীয়ের নাম দিয়ে ফর্ম জমা দিলেই ছাড় পাওয়া যাবে, এমন ধারণা ভুল। ফর্ম জমা দেওয়া থেকে তালিকায় নাম ওঠা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই যাচাইয়ের আওতায় থাকছে।
কমিশন সূত্রে খবর, “ভোটার তালিকা শুধুই একটি প্রশাসনিক নথি নয়, এটি নাগরিকত্বের প্রমাণও বটে। তাই কোনও তথ্য নিয়ে প্রশ্ন থাকলে শুনানি এড়ানো যাবে না।”








