এই তিলোত্তমা আমার শহর নয় সিটি অফ জয়কে জয় করতে পারলেন না মেসি
খান বাহাদুর শেখ
ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি কলকাতায় এলেন, দেখলেন, কিন্তু জয় করতে পারলেন না সিটি অফ জয়কে। গাঁটের কড়ি খরচ করে মেসিকে দেখতে শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উপচে পড়েছিল ফুটবলপ্রেমীদের ভিড়। বাঙালির চিরাচরিত আবেগ আর হুজুগে ভর করে এদিন সাতসকালেই মেসি-ময় হয়ে ওঠে তিলোত্তমা কলকাতা। কিন্তু হল না মধুরেণ সমাপয়েৎ। ছন্দপতন ঘটল কিছু সময়ের পরেই। দুপুর পৌনে বারোটা নাগাদ হোটেল থেকে যুবভারতীতে পদার্পণ করলে তাঁকে ঘিরে ধরেন ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত থেকে মন্ত্রী-সান্ত্রী, আমলা, টলিউডের নায়ক-নায়িকারা। সঙ্গে অবশ্যই কলকাতার ফুটবল কর্মকর্তা ও কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। টিকিট কেটে মেসিকে একটিবার কাছ থেকে দেখার অপেক্ষায় থাকা ফুটবলপ্রেমীদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙলে শুরু হয়ে যায় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। বজ্র আঁটুনির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় মুহূর্তের বালির বাঁধ হয়ে ভেঙে পড়ে। দুকুল ছাপিয়ে দর্শকরা নেমে পড়েন মাঠে। বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে ঘিরে ধরে সপরিবারে প্রভাবশালীদের হ্যাংলামো ছিল সত্যিই দৃষ্টিকটু। এই বিড়ম্বনায় ক্ষুব্ধ হন মেসি। তাঁর মতো গ্লোবাল সেলিব্রিটির জন্য যে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি থাকা উচিত ছিল, তার লেশমাত্র দেখা যায়নি যুবভারতীতে।
স্বভাবতই হাজার হাজার টাকা খরচ করে দূর গ্যালারি থেকে বসেও স্বপ্নেক ফুটবলার মেসিকে দেখতে না পেয়ে গর্জে ওঠেন ক্রীড়ামোদীরা। তাতে কেউ কর্ণপাত করেননি। তারওপর সেলফি থেকে অটোগ্রাফ নেওয়ার হিড়িকে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সব প্রোটোকল। বড়জোর মিনিট ২০ মাঠে ছিলেন মেসি। পরিস্থিতি আঁচ করে নিরাপত্তারক্ষীদের ঘেরাটোপে মাঠ থেকে দ্রুত বেরিয়ে সোজা বিমানবন্দরের দিকে রওনা দেন। সুনামির মতো আছড়ে পড়ে দর্শকদের রাগ, ক্ষোভ। হতাশার বিস্ফোরণে শুরু হয় বোতল-বৃষ্টি। গ্যালারি থেকে মাঠে উড়ে আসে জলের বোতল থেকে খাবারের প্যাকেট। ভাঙা চেয়ার, চেয়ারের হাতল, পায়া ইত্যাদি জমতে থাকে মাঠে। এমন সময় যুবভারতীতে আসেন বলিউডের সুপারস্টার শাহরুখ খান। যদিও মাঠের ভিতরে তিনি ঢোকেননি। বেগতিক দেখে দ্রুত মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান সৌরভ গাঙ্গুলিও। এরপর উত্তেজিত ফুটবলপ্রেমীরা আগুন ধরিয়ে দেয় ভিআইপিদের লাউঞ্জের সোফায়। ছিঁড়ে ফেলে গোলপোস্টের জাল।
এহেন উত্তেজনা ও তাণ্ডবের খবর পেয়ে ফিরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাহরুখও ততক্ষণে বিমানবন্দরের পথে রওনা দেন। তারস্বরে শোনা যায় জয় শ্রীরাম স্লোগানও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় উত্তেজিত ছাত্র, যুব, তরুণদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বেধে যায় ধুন্ধুধার কাণ্ড। গোলমাল ছড়িয়ে পড়ে মাঠের বাইরেও। গোটা ঘটনার জন্য এক্স হ্যান্ডলের মাধ্যমে মেসির কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রেফতার করা হয়েেছে মূল উদ্যোক্তা-সহ বেশ কয়েকজনকে। পাশাপাশি যুবভারতী কাণ্ডের তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণাও। ২ সপ্তাহে তারা রিপোর্ট জমা দেবে।








