ই-বুকের সঙ্গে মুদ্রিত বইয়ের কোন বিরোধ নেই
নতুন পয়গাম, আব্দুল গফফার, হুগলিঃ দ্বিতীয় বর্ষের বৈদ্যবাটি বইমেলা আজ শুরু হয়ে গেল। চলবে ১৯ তারিখ পর্যন্ত। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং ঘন্টা বাজিয়ে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কলকাতা পাবলিশার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়। বৈদ্যবাটি পৌরসভা আয়োজিত দ্বিতীয় বর্ষের বৈদ্যবাটি বইমেলায় বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি তন্ময় চক্রবর্তী, রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত তথ্যচিত্র নির্মাতা ও পরিচালক অভিজিৎ ব্যানার্জি, চাঁপদানির বিধায়ক এবং বইমেলা কমিটির সভাপতি অরিন্দম গুঁই, বৈদ্যবাটি পৌরসভার পৌরপ্রধান পিন্টু মাহাতো সহ পৌর সদস্যবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে গিল্ড সম্পাদক বলেন, প্রথম যখন কলকাতা বইমেলা শুরু হয় তখন ৫০টি প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণ করেছিল। আর এবারের আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তক মেলায় ১০৭৫ টি প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণ করছে। এর থেকে বোঝা যায় গ্রন্থপ্রেমী মানুষদের জন্যই ক্রমশ বইমেলার ব্যাপ্তি ঘটছে। তার ঢেউ এখন কলকাতার পাশাপাশি মফস্বল শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন সারা রাজ্যে কম বেশি ৩৫০ বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এটাই প্রমাণ করে দেয় যে মানুষ বই কেনে বই পড়ে। বর্তমানে ই-বুক, ডিজিটাল বুক, ফেসবুক, ইন্স্টাগ্রাম যাই থাকুক না কেন, বইয়ের সঙ্গে তাদের কোন বিরোধ নেই। বই ছিল আছে এবং থাকবে। কারণ বইয়ের বিকল্প হলো বই। তাই আপনারা আপনাদের শিশুদের হাতে বই তুলে দিয়ে বলুন প্রতিদিন অন্তত একটা করে গল্প পড়ে শোনাতে। তাহলে তাদের প্রতি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে এবং বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। তিনি আরো বলেন বৈদ্যবাটি শহর হল বহু ইতিহাস সমৃদ্ধ। এই শহর বহু সাহিত্যিকের জন্ম দিয়েছে। তাই এই শহরে আগামী দিনগুলোতেও বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে এই আশা করি।
এদিন, বৈদ্যবাটি পৌরসভার সামনে থেকে এলাকার বিশিষ্ট মানুষজনসহ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। বৈদ্যবাটি বি এস পার্কে অনুষ্ঠিত বইমেলার মাঠে প্রবেশের পর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে বইমেলার ক্যালেন্ডার দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। জানা গেছে বইমেলায় বিভিন্ন স্টলের পাশাপাশি প্রায় ৮০ টি বুক স্টল ও প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, বইমেলায় দি ইয়ং মেন্স অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি গ্রন্থাগারও স্টল দিয়েছে। বইয়ের জন্য সদস্যপদ সংগ্রহের পাশাপাশি গ্রন্থাগারে এসে বই পড়ার জন্য প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।








