পুরুষদের দুই বিয়েই যে গ্রামের নিয়ম
নতুন পয়গাম, বাড়মেড়, ১৩ সেপ্টেম্বর:
একাধিক বিয়ে আজকাল সচরাচর দেখা যায় না। আবার দ্বিতীয় বিবাহ এখন খুব একটা আহামরি ব্যাপারও নয়। একবিংশ শতাব্দীর সিকিভাগে এসেও রাজস্থানে এমন একটি গ্রাম রয়েছে, যেখানে প্রাচীন রীতি বা প্রথা মেনে পুরুষেরা দুটি করে বিয়ে করেন। এখানকার জনসংখ্যা আনুমানিক ৮০০। আর গ্রামের সব পুরুষেরই দু’জন করে স্ত্রী।
এমনিতেই মরুরাজ্য রাজস্থানের অধিকাংশ এলাকায় সারা বছর পানির জন্য হাহাকার দেখা যায়। দেরাসর গ্রামে এই সমস্যা আরও প্রকট। দ্বিতীয় বিবাহের পরম্পরা টিকিয়ে রাখার পিছনে নানা কারণের মধ্যে এটা অন্যতম। উল্লেখ্য, দেশের হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী একজন স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিবাহ করা বেআইনি বা আইন-বিরুদ্ধ কাজ। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স বা বিবাহ-বিচ্ছেদ হলে, তবেই সেই ব্যক্তি দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারেন। তবেই নতুন বিবাহ আইনসিদ্ধ হয়। অ-হিন্দুদের জন্য অবশ্য এই আইন কার্যকর নয়।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী রাজস্থানের বাড়মেড় একটি জেলার নাম। এখানকার দেরাসর গ্রামের হিন্দু পুরুষেরা প্রাচীন প্রথা মেনে দুই বিয়ের রীতি এখনও টিকিয়ে রেখেছেন। জনশ্রুতি অনুযায়ী স্থানীয় লোকজনেরা মনে করেন, একটা বিবাহ করলে প্রথম স্ত্রীর গর্ভে কন্যা সন্তান জন্ম নেবে। পুত্র সন্তান হবে না। সুতরাং তাদের এলাকায় পুত্র সন্তানের সংখ্যা কমে যাবে। কিন্তু দ্বিতীয় বিবাহ করলে নতুন স্ত্রীর গর্ভে পুত্র সন্তান জন্ম নেবে। এজন্য তারা নাকি দুটো করে বিয়ে করেন। যদিও এই যুক্তি আদৌ ধোপে টেকে না।
অনেকে বলেন, আসলে বাস্তবতা অন্য। এই গ্রামে পানীয় জলের খুব অভাব। দূর দূরান্ত থেকে কলসী, ঘড়া, ড্রাম ইত্যাদি করে পানি বহন করে আনতে হয়। প্রতিদিন এই পানি বয়ে আনার কাজটি মূলত নারীরাই করে থাকে। কারণ, পুরুষেরা মূলত কর্মসূত্রে সারাদিন বাড়িতে প্রায় থাকে না বললেই চলে।
দ্য ওড়িষ্যা পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেরাসর গ্রামের নারীদের পানি সংগ্রহের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৫ কিলোমিটার বা তারও বেশি পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। গর্ভবতী হলে একজন গৃহবধূ পানি আনতে এতটা দূর পথ হেঁটে যেতে পারেন না, অসম্ভব। তাই, তার স্বামীকে দ্বিতীয় বিবাহ করতে হয়, যাতে নতুন স্ত্রী এসে সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম সামলাতে পারে এবং অবশ্যই পানি আনতে যেতে পারে। মূলত এই কারণেই এখানে যুগ যুগ ধরে হিন্দু পুরুষেরা দ্বিতীয় বিবাহ করেন।








