করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা
নতুন পয়গাম, নদীয়া, ২১ ফেব্রুয়ারি: বহরমপুর যেতে করিমপুর এলাকাবাসীকে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা। নতিডাঙ্গা তেলকল থেকে পাড়দিয়াড় ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার দীর্ঘদিনের বেহাল দশা নিয়ে লাগাতার খবর আর এলাকাবাসির আন্দোলনের জেরে অবশেষে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। ৩.১৫৮ কিমি রাস্তা নির্মাণে পথশ্রী-৪ প্রকল্পে সম্প্রতি বরাদ্দ হয় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। শনিবার সেই রাস্তার আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবুতাহের খান, নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীর, করিমপুর-২ বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার সহ তৃণমূল নেতৃত্ব। থানারপাড়া থানার অন্তর্গত নতিডাঙ্গা তেলকল মোড় থেকে পন্ডিতপুর লক্ষীপুর হয়ে পাড়দিয়াড় ব্রিজ পর্যন্ত নদিয়া-মুর্শিদাবাদের যোগাযোগের একমাত্র এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন থেকে বেহাল। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ উত্তরবঙ্গে যাতায়াতের এই রাস্তাই একমাত্র ভরসা করিমপুর-১ ও ২ ব্লকের হাজার হাজার মানুষের। এলাকার ব্যস্ততম এই রাস্তায় ছোটখাট দুর্ঘটনা তো লেগেই আছে। মাঝেমধ্যে উল্টে যাচ্ছে টোটো সহ অন্যান্য গাড়ি, আহত হচ্ছেন অনেকে।
এম্বুলেন্স ছাড়াও প্রতিদিন প্রাইভেট গাড়িতেও রোগীরা যান মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সবচেয়ে সমস্যায় পড়েন গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা। হরিহরপাড়া হয়ে করিমপুর-বহরমপুর রুটে প্রায় ২৩ টি বেসরকারি বাসও যাতায়াত করে এই রাস্তায়।
এলাকাবাসীর পথ অবরোধ ও প্রতিবাদের জেরে নতিডাঙ্গা হাসপাতাল সংলগ্ন সেই রাস্তা বর্ষার আগে তড়িঘড়ি ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হতে না হতেই ফের বেরিয়ে পড়ে পিচ পাথর। ফের দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী। যদিও ওভারলোড ট্রাক-ডাম্পারের অতিরিক্ত যাতায়াতের ফলে রাস্তা টেকসই হয়না বলে অভিযোগ করেন নতিডাঙা-১ অঞ্চল সভাপতি আনিসুর রহমান।
এবার প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেই রাস্তা নতুন করে নির্মাণের খবরে খুশি এলাকাবাসী। খুব শীঘ্রই রাস্তার কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানান সাংসদ। পন্ডিতপুরের স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মাতিন বিশ্বাস বলেন, রাস্তাটি সংস্কার হয় কিন্তু টেকসই হয়না। আমরা চাই এবার ভাল কন্ট্রাক্টর দিয়ে ভালোভাবে তৈরি হোক রাস্তাটি। এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে মহুয়া বলেন, এই রাস্তায় যাতে ওভারলোড গাড়ি না আসতে পারে সেটা আপনাদের দেখতে হবে। বড়বড় লরি হাইরোড দিয়ে না গিয়ে এই রাস্তায় আসার ফলে রাস্তাটি টেকসই হচ্ছে না। সেইসাথে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন হাইট বার লাগানোর যাতে ওভারলোড গাড়ির যাতায়াত বন্ধ হয়।
এদিন করিমপুর-২ ব্লকের ১০টি অঞ্চলে পথশ্রী-রাস্তাশ্রী প্রকল্পের চতুর্থ পর্বের ১১টি রাস্তা নির্মাণের শুভ সূচনা করেন মহুয়া। সিপিএমের করিমপুর-২ এরিয়া কমিটির সম্পাদক লিয়াকত হোসেনের দাবি, রাজ্য সরকার যে টেন্ডার করছে সেই টেন্ডারের একটা বড় অংশ উপর থেকে নিচ যে আমলারা আছে তারা কাটমানি নিচ্ছে যার ফলে কন্ট্রাক্টররা নিম্নমানের সামগ্ৰী দিয়ে রাস্তা নির্মান করছে যার ফলে কোন রাস্তায় টিকছে না।








