BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

গান্ধীর অহিংসার আলো ও গাজার অন্ধকার

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ১২:৫৮ | আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ১২:৫৮

মফিজুল তরফদার

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম, ২ অক্টোবর: 

আরও পড়ুন:

গান্ধীজির জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে কেবল এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানানো নয়, বরং এমন এক নৈতিক আদর্শকে সামনে আনা, যা আজও আমাদের অস্তিত্বের গভীরে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়। গান্ধী ছিলেন সেই মানুষ, যিনি সত্যকে জীবনযাত্রার কেন্দ্রে স্থাপন করেছিলেন এবং অহিংসাকে করেছিলেন রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রধান অস্ত্র। তাঁর কাছে অহিংসা ছিল না দুর্বলতার পরাজিত পথ, বরং তা ছিল মানুষের অন্তরের মহাশক্তির জাগরণ। আজকের পৃথিবীতে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও গাজার রক্তাক্ত গণহত্যার প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গান্ধীর দর্শনকে নতুন করে অনুধাবন না করলে, আমরা হয়তো মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ হারিয়ে ফেলব।
গান্ধীজি বলেছিলেন, “অহিংসা দুর্বলদের অস্ত্র নয়, এটি শক্তিশালীদের সাহস।” তাঁর এই বাণী আজ গাজার ধ্বংসস্তূপের ওপর থেকে যেন আমাদের কাছে ফিরে আসে। রক্তে ভেসে যাওয়া রাস্তা, আতঙ্কে কাঁপতে থাকা শিশু, অসহায় মানুষের আর্তনাদ – সবই যেন প্রমাণ করে, সহিংসতার রাজনীতি মানবসভ্যতাকে কোথায় ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। গাজার দিকে তাকালে বোঝা যায়, বন্দুক আর বোমা হয়তো তাৎক্ষণিক প্রাধান্য এনে দিতে পারে, কিন্তু তারা কখনো ন্যায় ও স্থায়ী শান্তি গড়ে তুলতে পারে না। প্রতিটি বিস্ফোরণ আসলে আরও এক বিস্ফোরণের জন্ম দেয়, প্রতিটি প্রতিশোধ আরও গভীর প্রতিশোধের বীজ বুনে।
যদি গান্ধীজি আজ বেঁচে থাকতেন, তবে নিশ্চয়ই তিনি গাজার শিশুদের হাত ধরে দাঁড়াতেন, দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে নিজের শরীরকে ঢাল করতেন, যেমন করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে শুরু করে ভারতের রণাঙ্গনে। তিনি জানতেন, সত্যের শক্তি একদিন অবশ্যম্ভাবীভাবে মিথ্যার প্রাচীর ভেঙে ফেলবে। কিন্তু সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে সাহস দরকার, সেই সাহস আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আজ প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে। আজকের পৃথিবীতে অনেকেই অহিংসার বার্তাকে “অবাস্তব” বা “অকার্যকর” মনে করে। অথচ আমরা ভুলে যাই, ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাসই প্রমাণ করেছে যে অহিংসা যদি দুর্বলতার প্রতীক হতো, তবে তা দিয়ে কোনো সাম্রাজ্যের পতন ঘটানো সম্ভব ছিল না।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষ এই প্রমাণ দিচ্ছে যে শক্তির নামে চালানো সহিংসতা এক দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকার তৈরি করে। ফিলিস্তিনের ভেঙে পড়া ঘরবাড়ি, মাটিতে ছড়িয়ে থাকা শিশুর দেহ, আহত মানুষের আর্তনাদ – এসব কি শুধু রাজনৈতিক বিরোধের ফল? না, এগুলো আসলে সেই মানবিক বিবেকের পরাজয়ের সাক্ষ্য, যা গান্ধী বারবার বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি, “চোখের বদলে চোখ নিলে গোটা পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে,” আজ যেন সবচেয়ে করুণভাবে সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। আমরা আসলেই অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছি – সামরিক শক্তির অহংকারে, ক্ষমতার বিভাজনে, সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাতিত্বে, এমনকি আমাদের নীরব সমর্থনের মধ্য দিয়েও।
কিন্তু আমরা ভুলে যাই, গান্ধীর অহিংসার পথ কখনো সহজ ছিল না। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি ছিল ভয়ঙ্কর, তাদের অস্ত্র ছিল সর্বশক্তিমান, কিন্তু গান্ধীর হাতে ছিল কেবল প্রার্থনা ও প্রতিবাদের শান্তিপূর্ণ শক্তি। তিনি লবণ সত্যাগ্রহের সময় দেখিয়ে দিয়েছিলেন, একটি সাধারণ পদক্ষেপও কিভাবে সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিতে পারে, যদি সেই পদক্ষেপ সত্য ও ন্যায়ের শক্তিতে উজ্জীবিত হয়। আজ গাজায় কিংবা অন্য যে কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডে সেই পাঠই সবচেয়ে প্রয়োজন – অস্ত্র দিয়ে নয়, মানুষকে জাগিয়ে তুলেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায়।
প্রশ্ন জাগে – এই সময়ে মহাত্মা গান্ধীর দর্শন কি আদৌ কার্যকর? হ্যাঁ, কার্যকর, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে। সহিংসতা তৎক্ষণাৎ ভয় সৃষ্টি করে, আর অহিংসা সময় নিয়ে মানুষের আত্মাকে জাগিয়ে তোলে। গান্ধী জানতেন, অহিংসা কখনো সহজ পথ নয়; বরং তা সবচেয়ে কঠিন পথ। কিন্তু সেটিই একমাত্র পথ, যা শেষ পর্যন্ত টেকসই শান্তি এনে দিতে পারে। আজকের গাজায় যদি সত্যিকারের নেতৃত্ব থাকত, তবে তারা গান্ধীর শিক্ষা থেকে শিখত – ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে সত্য ও অহিংসার ওপর দাঁড়াতেই হবে। কারণ বোমা দিয়ে মাটি জেতা যায়, কিন্তু হৃদয় জেতা যায় না।
গান্ধীর দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নৈতিক সাহসের রাজনীতি। তিনি বুঝেছিলেন, ক্ষমতা কেবল সামরিক শক্তি থেকে আসে না; প্রকৃত শক্তি আসে মানুষের নৈতিক অবস্থান থেকে। গাজার বর্তমান সংকটেও আমরা দেখতে পাচ্ছি, আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা শক্তি নিজেদের স্বার্থে নীরব থেকে গেছে। তাদের নীরবতা আসলে অন্যায়ের পাশে দাঁড়ানো। গান্ধীর শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় – যে অন্যায়ের মুখে চুপ থাকে, সে-ও অন্যায়ের অংশীদার হয়ে যায়। তাই আজকের পৃথিবীতে প্রয়োজন শুধু সহানুভূতি নয়, বরং সক্রিয় নৈতিক অবস্থান।
এই সময়ে গান্ধীজিকে স্মরণ করা মানে আমাদের নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করা। আমরা কি সত্যিই তাঁর বার্তাকে জীবনে ধারণ করেছি, নাকি কেবল অনুষ্ঠান আর বক্তৃতার আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রেখেছি? গাজার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি আমাদের দেখাচ্ছে যে পৃথিবী যদি অহিংসার পথে না হাঁটে, তবে আগুনের এই ছায়া একদিন সবার দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। শান্তির নামে যারা যুদ্ধ চালায়, তারা আসলে নিজেদের অস্তিত্বের ভিত্তিকে ধ্বংস করছে।
মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন তাই শুধু অতীতের স্মরণ নয়, বরং বর্তমানের এক আহ্বান। আমাদের প্রত্যেককে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে – আমরা কি রক্তপাতের নীরব দর্শক হয়ে থাকব, নাকি সত্য ও অহিংসাকে জীবনের মূলমন্ত্র করে তুলব। যদি আমরা এই মুহূর্তে তাঁর শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে গ্রহণ করি, তবে হয়তো গাজার শিশুর কান্না থেকে নতুন আশার সঙ্গীত জন্ম নিতে পারে। আর যদি না করি, তবে ইতিহাস আমাদেরকে মনে রাখবে সেই অন্ধকার প্রজন্ম হিসেবে, যারা গান্ধীর আলোকে উপেক্ষা করে যুদ্ধের অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
গান্ধীর দর্শন তাই আজ শুধু একটি নৈতিক বার্তা নয়, বরং আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র শর্ত। গাজার অন্ধকারে দাঁড়িয়ে তাঁর অহিংসার আলোই আমাদের শেখায় – মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে না পারলে, সভ্যতা কেবল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। এবং সেই ধ্বংসস্তূপে একদিন সবাই সমানভাবে সমাহিত হবে – বিজয়ী-পরাজিত, শক্তিধর-দুর্বল সকলেই। তাই গান্ধীর জন্মদিন কেবল উৎসব নয়, মানবজাতির জন্য সতর্কবার্তা। এখনই যদি সত্য ও অহিংসার আলোকে ধারণ না করি, তবে পৃথিবীর মানচিত্রে আরও বহু গাজা সৃষ্টি হবে, আর সভ্যতার নামান্তর হয়ে দাঁড়াবে কেবল ধ্বংস।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder