প্রয়াত জাপানের একমাত্র বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন তোমিইচি
নতুন পয়গাম, টোকিও, ১৭ অক্টোবর:
জাপানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তোমিইচি মুরাইয়ামা মারা গেছেন। ১০১ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তিনি মারা যান। তিনি ছিলেন জাপানের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে বিখ্যাত হয়ে যান মুরায়ামা। স্বল্প মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও তিনি কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ করেছিলেন। ১৯৭২ সালে প্রথমবার সাংসদ হন। ১৯৯৩ সালে জাপানের সমাজতন্ত্রী দলের সভাপতি হন। ১৯৯৩ সালে কাকতালীয়ভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। সেবার ৮টা বিরোধী দল মিলে জোট সরকার গঠন করে। তার পর আর কখনো জাপানে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী হননি। ক্ষমতায় ছিলেন ২ বছরের মতো। তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করে বেনজির দৃষ্টান্ত রেখেছিলেন। সেটি হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে চীন ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে আগ্রাসনের জন্য জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া ও গভীর শোক প্রকাশ করা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৯৫ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাপান ঔপনিবেশিক শাসন ও আগ্রাসনের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য সৃষ্ট ক্ষতি ও দুর্দশার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। তিনি এশিয়ার মানুষদের ওপর জাপানের অত্যাচারের জন্য গভীর অনুতাপ প্রকাশ করে বলেছিলেন, জাপান তার ঔপনিবেশিক শাসন ও আগ্রাসনের মাধ্যমে অনেক দেশের, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোর মানুষের বিরাট ক্ষতি ও দুঃখের কারণ হয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না। আমি বিনীতভাবে এই ঐতিহাসিক সত্যগুলো স্বীকার করছি। গভীর অনুতাপ প্রকাশ করছি এবং আন্তরিক ক্ষমা চাইছি। তাঁর এই বক্তব্য পরবর্তীতে জাপানের যুদ্ধ-সংক্রান্ত ক্ষমাপ্রার্থনার মানদণ্ড হয়ে ওঠে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় সাফল্য ছিল হিরোশিমা ও নাগাসাকির আণবিক বোমা হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া লোকজনের চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে আইন পাস করা।








