চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইআরও-দের হাতেই, মমতার আবেদনে সুপ্রিম-সায় এআই টুল নিয়ে ভর্ৎসনা কমিশনকে
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে চলা মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল ইআরও এবং এইআরও-দেরই থাকবে। কমিশন নিযুক্ত মাইক্রো অবজার্ভাররা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না, তাঁরা কেবল সহায়তা করবেন। এই রায়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিই মান্যতা পেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিন শুনানির শুরুতেই রাজ্যের সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। তিনি অভিযোগ করেন, নামের বানানে সামান্য ভুলের কারণে অসংখ্য মানুষকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কমিশনের ব্যবহৃত এআই টুল বা সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, অনেক পরিবারে ‘কুমার’ শব্দটি মধ্যনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সফটওয়্যার অসংগতির কারণে সেইটুকু পার্থক্যেও নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এমনকি বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের তফাত নিয়ে যান্ত্রিক হিসাব কষে সাধারণ মানুষকে যে নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাকে ‘বাস্তব-বর্জিত’ বলে ভর্ৎসনা করে আদালত।
রাজ্য সরকার এদিন আদালতকে জানায়, তারা কমিশনকে ৮,৫০০ কর্মী দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নির্দেশ দেন, এই ৮,৫০৫ গ্রুপ ‘বি’ অফিসারকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিইও বা ইআরও-দের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। কমিশন তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগাবে। তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন, ইআরও-দের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব খাটানোর কোনো আইনি অধিকার মাইক্রো অবজার্ভারদের নেই।
অন্যদিকে, রাজ্যে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ফর্ম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। এই ঘটনায় এখনও কেন এফআইআর হয়নি, তা জানতে চেয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে শোকজ করা হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, স্ক্রুটিনির জন্য ইআরও-দের আরও এক সপ্তাহ বাড়তি সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সব মিলিয়ে, ভোটারদের নাম বাদ পড়ার যে আশঙ্কা রাজ্য সরকার প্রকাশ করেছিল, আদালতের এই পর্যবেক্ষণে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।








