সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি
নতুন পয়গাম, হাসান লস্কর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: সুন্দরবনে আবারও বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারালেন এক মৎস্যজীবী। মৃতের নাম রামপদ বর্মন (৪৫)। তিনি গোসাবা এলাকার ছোটমোল্লাখালি কালিদাসপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনজন সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দরবনের চামটা জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় হঠাৎ একটি বাঘ তার উপর আক্রমণ করে। স্থানীয়দের তৎপরতায় বাঘের মুখ থেকে তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য তার মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর সদস্য মিঠুন মণ্ডল জানান, চলতি বছরেই এখন পর্যন্ত পাঁচজন বাঘের আক্রমণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই বনদপ্তরের ভূমিকা প্রায় নেই বললেই চলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে প্রশাসনের দায়িত্বশীল উদ্যোগও দেখা যায় না। রামপদ বর্মন স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বাঘের আক্রমণে নিহতদের পরিবারকে ১৫ দিনের মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের ভরণপোষণ, নাবালক সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ পরিবহনের খরচও প্রশাসনকে বহন করতে হবে। পরিবার থেকে অন্তত একজনকে সরকারি চাকরির ব্যবস্থার দাবিও তোলা হয়েছে। এছাড়া বাঘ বা কুমিরের আক্রমণে আহত বা নিহত সমস্ত মৎস্যজীবীর জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যরা।








