মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীদের অপসারণ বিল মোদির কথাতেই প্রধানমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: রিজিজু
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ২৩ আগস্ট: কোনো রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের কোনও মন্ত্রী কিংবা মুখ্যমন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রী গ্রেফতার হয়ে ৩০ দিন জেলে আটক থাকলেই তাঁকে পদ থেকে অপাসরণ করা হবে। কেন্দ্র সরকার এমনই এক বিল লোকসভায় পেশ করে বুধবার। যদিও বিলটি পেশ করতেই বিরোধী সাংসদরা একযোগে তীব্র হইচই, হট্টগোল বাধালে বিলটি অধিবেশনে আলোচনার অবকাশ না দিয়ে সেদিনই জেপিসি-তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হয় বৃহস্পতিবার। ঠিক তার আগের দিন বিলটি পেশ করার অর্থ হল এই বিলের ওপর আলোচনা হোক — এটা কেন্দ্র সরকার চায়নি। এদিন তারা বিলটি পেশ করে কেবল আগুনে ঘি-টা ঢেলে দিল। এর কয়েক মাস পর শীতকালীন অধিবেশনে আবার বিষয়টি পার্লামেন্টে উঠবে। ততদিনে উত্তেজনা অনেকখানা থিতিয়ে যাবে। এই সুযোগে কাজ করবে জেপিসি — এমনই পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছে বিরোধী দলগুলো।
যাহোক, শনিবার নতুন করে জানা গিয়েছে, এই বিলে মাকি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর নাম ছিল না। ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলে প্রধানমন্ত্রীকেও অপসারণের অপশন রেখে নিজের পদকেও সংযোজন করেন খোদ নরেন্দ্র মোদীই। চারদিন পর আচমকা এদিন এ কথা জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এদিন জানান, ”এই সংবিধান সংশোধনী বিল যখন মন্ত্রিসভায় পেশ করা হয়, তখন প্রাথমিক প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর পদকে বাদ রাখা হয়েছিল। কেবল মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্যের মন্ত্রী এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মন্ত্রীদের জন্য এই বিলের খসড়া তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এতে সমর্থন দেননি খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি নিজেই ক্যাবিনেটকে জানান, ”প্রধানমন্ত্রীও দেশের একজন নাগরিক এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাঁর ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ সুরক্ষা বা ব্যতিক্রম থাকা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রীকেও ছাড় দেওয়া উচিত নয়। অধিকাংশ মুখ্যমন্ত্রীই আমাদের দলের। যদি আমাদের দলের লোকজন ভুল বা অপরাধ করে, তবে তাদেরকেও পদ ছাড়তে হবে। সুতরাং বিরোধীরা যদি নৈতিকতার পথে চলত, তবে তারাও এই বিলকে স্বাগত জানাত।”
বিরোধীদের অভিযোগ, এভাবেই মোদির ওপর কার্যত দেবত্ব আরোপের চেষ্টা করলেন তাঁর সহকর্মী সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।








