বড়জোড়ায় ‘আশার আলো’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
নতুন পয়গাম, সঞ্জয় মন্ডল, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়ায় বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্রছাত্রীদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “আশার আলো”-র বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বৃহস্পতিবার উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হল। পড়ুয়াদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে দিনভর এই ক্রীড়া অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক আবেগঘন মিলনমেলায়।উল্লেখ্য, “আশার আলো” শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ৯ মে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সোমা মুখোপাধ্যায়, যিনি পেশায় একজন শিক্ষিকা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, ফিজিওথেরাপি এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার বিশেষভাবে সক্ষম শিশুকে আত্মনির্ভর করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া জেলার তথা বড়জোড়ার ভূমিপুত্র, বিশিষ্ট সমাজসেবী বিক্রমজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আশার আলো” প্রতিষ্ঠানের জন্মলগ্ন থেকে যাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে, সেই সোমা মুখোপাধ্যায় এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁকে দেখে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ অনুপ্রাণিত হন। তিনি আরও জানান, ছোটবেলা থেকেই সোমা দির কাজ ও আদর্শ তাঁকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।বিক্রমজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, জীবনে না পাওয়া, কষ্ট, হতাশা ও প্রতিবন্ধকতা থাকবেই। কিন্তু সেই সব অন্ধকারের মধ্যেও “আশার আলো”-র মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলি মানুষের জীবনে আলোর দিশা দেখাতে নিরন্তর কাজ করে যাবে। বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের হাসি, উচ্ছ্বাস ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে এই বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা “আশার আলো”-র মানবিক দর্শন ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও একবার স্পষ্ট করে তুলে ধরল।








