শনিবার ভোররাতে পানুরিয়া বাস স্ট্যান্ডের কাছে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা, মুখোমুখি সংঘর্ষে জ্বলে উঠল দুটি ডাম্পার
নতুন পয়গাম, খান সাহিল মাজহার, বীরভূম: শনিবার ভোররাতে সদাইপুর থানার অন্তর্গত পানুরিয়া বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। ভোর প্রায় চারটে নাগাদ দুটি ডাম্পারের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ধরে যায় দুই ডাম্পারে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে গাড়ি দুটি, চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া ও আতঙ্ক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি বালি বোঝাই ডাম্পার দুবরাজপুরের দিক থেকে সিউড়ির দিকে যাচ্ছিল। অপরদিকে, সিউড়ির দিক থেকে দুবরাজপুরের দিকে আসছিল পাথর বোঝাই আরেকটি ডাম্পার। পানুরিয়া বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি পৌঁছনোর সময়ই আচমকা দুটি ডাম্পারের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের সঙ্গে সঙ্গেই ইঞ্জিন অংশ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত তা পুরো গাড়িতে ছড়িয়ে যায়।
ভোরের নির্জন রাস্তায় আচমকা আগুন ও বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আশপাশের বাসিন্দাদের। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুনে জ্বলতে থাকা ডাম্পার দুটি দেখতে পান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তারা সঙ্গে সঙ্গে সদাইপুর থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেন পুলিশ ও দমকল কর্মীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় সদাইপুর থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর দুটি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। প্রচেষ্টার পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে দুটি ডাম্পারই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আগুনে পুড়ে যায় গাড়ির বড় অংশ, সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয় মালপত্র।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান দুই ডাম্পারের চালক ও খালাসীরা। দুর্ঘটনার পর তারা দ্রুত গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বলেই বড়সড় প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তারা বিপন্মুক্ত বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ ওই রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও দমকল কর্মীদের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ডাম্পার দুটি রাস্তার এক পাশে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে সমস্ত দিক। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ভোরের সময় কম দৃশ্যমানতা, অতিরিক্ত গতি কিংবা চালকের অসতর্কতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে পানুরিয়া বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটায় ক্ষোভও বাড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হোক এবং পর্যাপ্ত আলো ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।








