শিরোপা’র আরও কাছে টিম ইন্ডিয়া, অভিষেকের ব্যাটে ঝড় অব্যাহত
ভারতঃ ১৬৮-৬(২০ ওভার)।
বাংলাদেশঃ ১২৭-১০(১৯.৩ ওভার)
ভারত জয়ী ৪১ রানে।
ম্যাচের সেরা – অভিষেক শর্মা।
সুপার ফোরের ম্যাচে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে লড়াই জমে উঠেছিল। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতের ধারাবাহিক খেলা ও অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে হলো বাংলাদেশকে। ভারত ৪১ রানের জয় তুলে নিয়ে এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
ভারত প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ১৬৮ রানের চ্যালেঞ্জিং ইনিংস দাঁড় করায়। এই রান সংগ্রহে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তরুণ ওপেনার আভিষেক শর্মা। তিনি মাত্র ৩৭ বলে ৭৫ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চমৎকার কিছু শট, যেগুলো মুহূর্তেই দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করে তোলে। তাঁর পাশে অন্যদিকে সূর্যকুমার যাদবও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। মাঝের ওভারে কিছুটা ধীরগতির হলেও শেষ দিকে ভারতের ব্যাটসম্যানরা রান তুলতে সক্ষম হন।
বল হাতে নামার পর ভারতীয় বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করেন। জসপ্রিত বুমরাহ তাঁর গতি ও নিখুঁত ইয়র্কারের জন্য বারবার বিপদ ডেকে আনেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের জন্য। ভেরুন চক্রবর্তী স্পিনে দুর্দান্ত ভ্যারিয়েশন এনে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করেন। তবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল কুলদীপ যাদবের। তাঁর স্পিনে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সমস্যায় পড়ে। একদিকে উইকেট পড়তে থাকে, অন্যদিকে সাইফ হাসান একাই লড়াই চালিয়ে যান। তিনি ৬৯ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে তিনি ম্যাচকে আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরাও বিশেষ কিছু করতে পারেননি। বাংলাদেশের অন্য ব্যাটসম্যানরা যখন একের পর এক ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন সাইফ চেষ্টা করেছিলেন হাল ধরার, তবে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের পথে নিতে ব্যর্থ হন।
এই ম্যাচে ভারতের প্রতিটি বিভাগে ছাপ রাখা গেছে। ব্যাটিংয়ে আভিষেক শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবের ইনিংস প্রশংসনীয়। বোলিংয়ে বুমরাহ, কুলদীপ এবং চক্রবর্তী ছিলেন অনন্য। প্রত্যেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে রেখেছিলেন।
বাংলাদেশের হয়ে সাইফ হাসান ছাড়া আর কেউই উজ্জ্বল হতে পারেননি। তবে তাঁর লড়াই ছিল স্মরণীয়। বল হাতে বাংলাদেশ কিছুটা সাফল্য পেলেও ভারতের ব্যাটিং অর্ডারকে ভাঙতে পারেনি।
এই জয় ভারতের কাছে বিশেষ কারণ নিয়ে এসেছে। এই ম্যাচ জেতার মাধ্যমে ভারত ইতিমধ্যেই ফাইনালে পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশকে এখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। সেই ম্যাচেই ঠিক হবে কে ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে। শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যেই ছিটকে গেছে, ফলে এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ফাইনাল হবে ভারত বনাম বাংলাদেশ বা ভারত বনাম পাকিস্তান।
ভারতের এই জয় শুধু তাদের ফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেনি, বরং দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিয়েছে। আভিষেক শর্মার ইনিংসকে অনেকেই ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোর জন্য ভারতীয় দলের সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। আর বুমরাহ-কুলদীপরা আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁদের বিশ্বের সেরা বোলারদের তালিকায় ধরা হয়।








