পদ্মার তাণ্ডব নিঃশ্বাসে নিঃস্ব তারানগর
মতিরুল রহমান
নতুন পয়গাম, তারানগর, মুর্শিদাবাদ:
পদ্মার করাল গ্রাসে লালগোলার তারানগর গ্রাম মানচিত্র থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। দশ বছর আগে পর্যন্ত গ্রাম থেকে দুই কিলোমিটার দূরে প্রবাহিত হত পদ্মা নদী। কিন্তু নদী একের পর এক চাষযোগ্য জমি, বাগান শেষ করে এখন মানুষের আশ্রয়—বাড়ি ঘর গ্রাস করে চলেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন বাড়ি ভাঙনের শিকার হচ্ছে।
পরশু এক রাতেই ১৩টি বাড়ি নদী ভাঙনে তলিয়ে গেছে। ঘুমন্ত মানুষ আতঙ্কে জেগে উঠে দেখেছেন চোখের সামনেই তাদের বাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। কিছু জিনিসও সরাতে পারেননি। যাদের বাড়ি এখনও ভাঙেনি, তারা আতঙ্কে ঘরের সামগ্রী—জানালা, দরজা, ইট, কাঠ যতটা সম্ভব অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। যা একটি ধ্বংসস্তূপের রূপ নিয়েছে। মাথাগোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে মানুষ এখন অসহায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। “বিধায়ক-সাংসদদের ঘরে আলো জ্বলে, মানুষের ঘরে অন্ধকার ও আতঙ্ক,” বলছেন নদী তীরবর্তী মানুষরা।
লালগোলার তারানগর ছাড়াও রঘুনাথগঞ্জ ১-এর শেখালিপুর ও রঘুনাথগঞ্জ ২-এর রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামে নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে নদী তীরবর্তী মানুষের।
বৃহস্পতিবার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তারানগর এলাকা পরিদর্শনে যান মন্ত্রী আখরুজ্জামান, জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান এবং লালগোলার বিধায়ক মহম্মদ আলী। মন্ত্রী আখরুজ্জামান ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন,
“ইতিমধ্যেই গৃহহীনদের স্কুলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ল্যান্ড আইডেন্টিফিকেশন চলছে। দ্রুত তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে আমাদের মানবিক সরকার।”








