ধর্মীয় নিপীড়ন মামলায় স্বচ্ছতা চাই: সুপ্রিম কোর্ট
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
ধর্মীয় নিপীড়ন বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের ভূমিকায় স্পষ্ট স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা জরুরি — এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার। মহারাষ্ট্র সরকারের করা এক পুনর্বিবেচনার আবেদনে সাড়া না দিয়ে তিনি বলেন, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা কাগুজে নয়, বাস্তবে প্রতিফলিত হতে হবে।
রাষ্ট্র সব ধর্মের প্রতি নিরপেক্ষ থাকবে — এটাই ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধ। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করেন বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ। তাই তাঁদের কর্মকাণ্ডে পক্ষপাতের ছায়া যেন না থাকে — তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে ২০২৩ সালের আকোলা দাঙ্গার প্রেক্ষিতে একটি মামলার শুনানিতে। ওই ঘটনায় খুন ও হামলার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল ১৭ বছরের এক মুসলিম কিশোর। তার অভিযোগ, দাঙ্গার সময় চারজন তাকে মারধর করে এবং এক ব্যক্তিকে ভুল ধারণায় খুন করা হয়।
পুলিশ অভিযোগ নিতে অনীহা দেখালে, কিশোরটি জেলা পুলিশ সুপারের কাছেও নালিশ জানিয়েছিল। তাতেও ব্যবস্থা না হওয়ায় বিষয়টি আদালতে ওঠে। এই মামলায় গত সেপ্টেম্বরেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, হিন্দু ও মুসলিম পুলিশকর্মীদের সমান সংখ্যায় নিয়ে বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করতে হবে, যাতে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।
মহারাষ্ট্র সরকার সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার আবেদন খারিজ করেন। যদিও বেঞ্চের অপর বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা পুনর্বিবেচনার পক্ষেই মত জানান, ফলে এ বিষয়ে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে। বিচারপতি কুমার ফের স্মরণ করালেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা শুধু সংবিধানের শব্দ নয়, মানুষের জীবন ও প্রশাসনের কাজে তার প্রয়োগ দেখতে হবে।”








