হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার
এম. রহমান, কল্যানী: এভাবেও হারা যায়?
সত্যি,বাংলা টিমকে না দেখলে কল্পনা করা যায় না।কিভাবে নিশ্চিত ফাইনাল থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা যায়,তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে রইলো অভিমন্যু, সুদীপরা। রঞ্জি ট্রফির নক-আউট মানেই ব্যাটারদের হাঁটু কাঁপার রোগ।সেটা আরও একবার প্রকট হয়ে গেল। রঞ্জির সেমিফাইনালে জম্মু ও কাশ্মীরের কাছে লজ্জার পরাজয়ে সেই ধারারই পুনরাবৃত্তি দেখল কল্যাণী। প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার পরও ৬ উইকেটে হেরে বিদায় বাংলার। তাও আবার ঘরের মাঠের সুবিধা সত্ত্বেও। অভিমন্যু ঈশ্বরণ, সুদীপ চ্যাটার্জি, অনুষ্টুপ মজুমদারদের অপদার্থতা সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমবার রনজি ট্রফির ফাইনালে ভূ-স্বর্গের দলটি। বুধবার প্রথম সেশনে ভানসাজের ছক্কায় নাটকীয় জয় নিশ্চিত হতেই আবেগের জোয়ারে ভাসলেন পরশ ডোগরা, আকিব নবিরা। কোচ অজয় শর্মাকে কাঁধে তুলে চলল ঐতিহাসিক সাফল্যের সেলিব্রেশন। বঙ্গ শিবিরে তখন হতাশার ঘোর অন্ধকার।
অথচ গ্রুপ পর্বে বাংলার দাপট দেখে মনে হয়েছিল, এবার হয়তো দীর্ঘ ৩৭ বছরের খেতাব খরা কাটবে। সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট নিয়ে নক-আউটে ওঠার পর অভিমন্যুদের ব্যাটিং নিয়ে কত না চর্চা! কিন্তু নক-আউটে সব জারিজুরি উধাও। চাপের মুখে ব্যাটিং বিপর্যয়। মহম্মদ সামি ছাড়া বাকিদের বোলিংও সন্তোষজনক নয়। আর ফিল্ডিংয়ের কথা না বলাই ভালো। জম্মু ও কাশ্মীর কোনও অপ্রতিরোধ্য দল নয়। কিন্তু অভিমন্যু, সুদীপরা মঙ্গলবার দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে উইকেট ছুড়ে দলকে ডুবিয়েছেন। কাল হয়েছে প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ার আত্মতুষ্টিই। ম্যাচের পর বিপক্ষ কোচও সেই একই কথা বললেন, ‘আত্মতুষ্টি ওদের ডোবাল’। মজার বিষয় হল বাংলার ক্রিকেটাররা আবার সমালোচনা হজম করতে পারেন না। তেতো বাক্যে বাংলা টিমের কিছু সদস্যের মুখ রাগে লাল হয়ে যায়। তাঁদের বোঝা উচিত, যে অনুরাগীরা দলকে নিঃশর্তভাবে সমর্থন করেন, ব্যর্থতার পর ক্ষোভ উগরে দেওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে। এই ব্যর্থতার পর্যালোচনা জরুরি। নাহলে আগামী মরশুমেও একই রকম স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় রক্তাক্ত হতে হবে সমর্থকদের।
প্রথম ইনিংসে লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলের ৩২৮ রানের জবাবে ৩০২ তোলে জম্মু কাশ্মীর। ২৬ রানের লিড পায় বাংলা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে সঙ্গী হয় ৯৯ রানে অল আউট হওয়ার লজ্জা। ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৬ রানের। তৃতীয় দিনের শেষে ২ উইকেটে ৪৩ রান তুলে ফেলেছিল সফরকারী দল। তখনই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে যায়। বুধবার সকালে আর মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে প্রথম বারের জন্য ফাইনালের টিকিট হাসিল করে ভূস্বর্গের দলটি। ভানসাজ শর্মার অপরাজিত ৪৩ ও আব্দুল সামাদের অপরাজিত ৩০ রানই সামি-আকাশদীপদের আশার কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেয়।ম্যাচ শেষে বঙ্গ অধিনায়ক অভিমন্যুর সাফাই, ‘ক্রিকেটে এমনটা হয় মাঝেমধ্যে। আমরা একটা সেশন খারাপ খেলেছি।’ কিন্তু, তাঁকে কে বোঝাবে, নক-আউটে এমন বাউন্ডুলে মানসিকতার কোনো ক্ষমা নেই!এই দলের কাছে সত্যিই ট্রফির স্বপ্ন আশা করা অন্যায়।








