বিশ্বে সবচেয়ে ভয়াবহ যৌন সহিংসতার শিকার সুদানের নারীরা
নতুন পয়গাম, খারতুম: সুদানের যুদ্ধ ভোগাচ্ছে নারীদের, তাঁরা শিকার হচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ যৌন সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের, যা ঘটছে দায়মুক্তি নিয়ে। সুদান সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সুলাইমা ইশহাক আল-খলিফা এ কথা বলেছেন। দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত। যাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে অন্তত ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ। ব্যাপক যৌন সহিংসতা ঘটছে এই সংঘাতের মধ্যে।
মন্ত্রী আরো বলেন, লুটপাট ও হামলার সঙ্গে নারী নির্যাতন ঘটছে অহরহ। ধর্ষণের ঘটনাগুলো প্রায়ই পরিবারের সামনেই হচ্ছে। বয়সের কোনো বাছ-বিচার হচ্ছে না। ৮ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীরাও ধর্ষিত হচ্ছেন! পেশায় মনোবিদ এই মহিলা মন্ত্রী এসব রোমহর্ষক কথা বলতে গিয়ে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি এও বলেন, নারীদের যৌনদাসী বানানো হচ্ছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া লজ্জা এড়াতে তাঁদের জোর করে বিয়েও দেওয়া হচ্ছে।
যুদ্ধরত দুই পক্ষ থেকেই নারীরা আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান সুলাইমা ইশহাক। তাঁর অভিযোগ, আরএসএফ এসব পরিকল্পিতভাবে করছে। জাতিগত নিধনের পরিকল্পনা নিয়ে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে তারা একে ব্যবহার করছে। তাঁর মন্ত্রক ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে ১৮০০-রও বেশি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।
মানবাধিকার সংস্থা এসআইএইচএ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যৌন সহিংসতায় নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর তিন-চতুর্থাংশের বেশি ধর্ষণের, যার ৮৭ শতাংশের জন্য দায়ী আরএসএফ। সুদানের দারফুরে অনারব সম্প্রদায়গুলোর ওপর পরিকল্পিত হামলা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি উভয় পক্ষের দ্বারা সংঘটিত ‘যুদ্ধাপরাধের’ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান গত সপ্তাহে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, তদন্তকারীরা দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি এল-ফাশেরে এক ‘সংগঠিত ও পরিকল্পিত অভিযানের’ প্রমাণ পেয়েছেন, যা অক্টোবরের শেষে আরএসএফ দখল করে নেয়। সেই অভিযানের মধ্যে ছিল ‘ব্যাপক হারে’ গণধর্ষণ ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা, যা অপরাধীরা কখনো কখনো ‘ভিডিও ধারণ করে উদযাপন করেছে’ এবং ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তির বোধ থেকে’ এসব কাজ করতে উৎসাহিত হয়েছে।
মন্ত্রী সুলাইমা ইশহাক বলেন, ‘এখন যা ঘটছে, তা আরও অনেক বেশি কুৎসিত। কারণ, এখন গণধর্ষণের ঘটনা ঘটছে এবং তা নথিভুক্তও হচ্ছে। হামলাকারী আরএসএফ যোদ্ধারা ‘এসব কাজ খুব গর্বভরে করে এবং তারা এটিকে অপরাধ হিসেবে দেখে না। তাদের যেন যা খুশি করার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।’
সুলাইমা ইশহাক বলেন, এদের মধ্যে ছিল পশ্চিম আফ্রিকার ফরাসিভাষী ভাড়াটে সেনারা, যাদের মধ্যে মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজেরিয়া, শাদ, কলম্বিয়া ও লিবিয়ার নাগরিকেরা ছিল, যারা আরএসএফের পক্ষে লড়াই করছে। তাঁর কথায়, নির্যাতিতদের একটি অংশকে অপহরণ করে যৌনদাসী হিসেবে আটকে রাখা হয়েছে, আবার অন্যদের সুদানের অরক্ষিত সীমান্তজুড়ে সক্রিয় পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের ফলে গর্ভধারণের মতো ঘটনা ঘটলে পরিবারগুলো প্রায়ই তা চাপা দিতে নির্যাতিতকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একে টর্চার অপারেশন (নির্যাতন অভিযান) বলছি।’ তিনি ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরীদের জোরপূর্বক বিয়েতে বাধ্য করার ঘটনাগুলোকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন।








