হরমনপ্রীতের ব্যাটে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ হল শ্রীলঙ্কা
নতুন পয়গাম, স্টাফ রিপোর্টার: একটা সময় ভারতের ৭৭ রানে ৫ উইকেট চলে যায়। সেখান থেকে হরমনপ্রীতের অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ে এবং শেষদিকে অরুন্ধতী রেড্ডির ক্যামিওতে ১৭৫ রান তোলে টিম ইন্ডিয়ার মহিলা ব্রিগেড।
তারপর বাকি কাজটা সারেন বোলাররা। তার পরিণতি হিসেবেই শ্রীলঙ্কাকে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ (৫-০) করল ভারত। মঙ্গলবার সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ ম্যাচে জয় এল ১৫ রানে। ১৭৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা থামল ১৬০-৭ রানে। চোটের জন্য সিরিজ থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন জেমাইমা রডরিগেজ। এদিন বিশ্রাম দেওয়া হয় স্মৃতি মান্ধানাকেও। ভারতের ওপেনিং জুটিতে তাই ঘটে বদল। ফর্মে থাকা শেফালি ভার্মার সঙ্গী হন ১৭ বছর বয়সি গুনালান কমলিনী। কিন্তু প্রথম উইকেট পড়ে দ্রুত। শেফালি (৫) ফেরেন দ্বিতীয় ওভারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকে কমলিনীর ব্যাটে আসে ১২। হরমনপ্রীত যখন ক্রিজে আসেন, তখন স্কোর ২৭-২। সেই থেকে তিনিই হয়ে ওঠেন ভরসা। উল্টোদিকে একের পর এক উইকেট পড়লেও হরমনপ্রীত ছিলেন অবিচল। হারলিন দেওল (১৩), রিচা ঘোষ (৫), দীপ্তি শর্মা (৭) ব্যর্থ। ১০.৪ ওভারে ৭৭ রানে পাঁচ উইকেট হারানো ভারতকে রীতিমতো চাপে দেখাচ্ছিল।
কিন্তু এরপরই জ্বলে ওঠেন হরমনপ্রীত। টি-২০ কেরিয়ারের ১৫তম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করতে নেন ৩৫ বল। শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে তাঁর সংগ্রহ ৬৮। ১৫৮.১৩ স্ট্রাইক রেটে নয়টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান ৩৬ বছর বয়সি। এই সিরিজে এর আগে বড় রান আসছিল না। সর্বাধিক ছিল ২১। ফিসফাস চলছিলই তাঁর জায়গা নিয়ে। সেই প্রেক্ষিতে এদিনের ‘ক্যাপ্টেন্স নক’ রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ। ষষ্ঠ উইকেটে আমনজোৎ কাউরের সঙ্গে জুটিতে ৬১ রান যোগ করেন হরমনপ্রীত। আমনজোৎ (২১) ফেরার পর স্লগ ওভারে ঝড় তোলেন অরুন্ধতী রেড্ডি। ১১ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। স্নেহ রানাও (৮) নট আউট থাকেন। শেষ চার ওভারে ওঠে ৫১ রান। সেটাই সাত উইকেটে ১৭৫ রানে পৌঁছে দেয় ভারতকে। শ্রীলঙ্কার হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন কবিশা দিলহারি, চামারি আতাপাত্তু ও রশ্মিকা সেউয়ান্দি।
শ্রীলঙ্কার শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। ক্যাপ্টেন আতাপাত্তু ফেরেন দ্বিতীয় ওভারেই। অরুন্ধতীর বলে দারুণ ক্যাচ ধরেন দীপ্তি। একটি উইকেটও নেন তিনি। যার সুবাদে অফস্পিনার টপকে গেলেন মেগান স্কুটকে (১৫২)। মহিলাদের টি-২০ ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বেশি উইকেট দীপ্তিরই (১৫৩)। শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা উসকে দিয়েছিলেন ইমেশা দুলানি (৩৯ বলে ৫০) ও হাসিনি পেরেরা (৪২ বলে ৬৫)। কিন্তু ১৭তম ওভারে হাসিনি ফিরতেই শ্রীলঙ্কার পরাজয় নিশ্চিত হয়ে ওঠে। ভারতের প্রত্যেক বোলারই নেন উইকেট। এদিন ম্যাচের সেরা হন হরমনপ্রীত কউর।সিরিজ সেরা দুরন্ত ফর্মের শেফালি ভার্মা।








