ইসরাইলের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা
নতুন পয়গাম, জোহানেসবার্গ:
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হলেও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাঁর দেশের দায়ের করা মামলার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। বুধবার সে দেশের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গাজায় জাতিগত নিধনের অভিযোগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলাটি করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। তা সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকা ২০২৩ সালে শুরু করা মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্পে অটল রয়েছে।
পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিশরে যে শান্তিচুক্তি হয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। এটা আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান মামলার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার ৫০০ পৃষ্ঠার বিস্তারিত আবেদন দাখিল করে আদালতে। ইসরাইলের পাল্টা যুক্তি জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি। ২০২৭ সালে এর শুনানি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের শেষ দিকে বা ২০২৮ সালের শুরুতে চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক আদালত তিনটি অস্থায়ী নির্দেশ জারি করেছে। এর আওতায় ইসরাইলকে জাতিগত নিধন বন্ধ ও গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর সুযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে ইসরাইল অনেকাংশেই এই নির্দেশগুলো মানতে ব্যর্থ হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রক বলেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের স্পেশাল পোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানিজ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা, ক্ষতিপূরণ এবং পুনরাবৃত্তি রোধের নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো শান্তি চুক্তি টেকসই নয়।’ ইসরাইলের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো স্যানচেজ বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতির মানে ইসরাইলের দায়মুক্তি হতে পারে না। এখানে দায়মুক্তির সুযোগ নেই। তাঁর কথায়, জাতিগত নিধনে মূল দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-সহ কিছু মানবাধিকার সংস্থা ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজায় জাতিগত নিধনের অভিযোগ করেছে। গত মাসে রাষ্ট্রসংঘ সমর্থিত এক তদন্ত কমিশন বলেছে, গাজায় ইসরাইল জাতিগত নিধন চালিয়েছে। যদিও এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল।
উল্লেখ্য, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, তুরস্ক ও কলম্বিয়া-সহ কিছু দেশ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক আদালতের মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমর্থন দিয়েছে বা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন








