রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম
নতুন পয়গাম, এম নাজমুস সাহাদাত, মালদহ: পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে মালদহের মোথাবাড়ি বাঙ্গিটোলায় এক মানবিক উদ্যোগের সাক্ষী থাকল গোটা এলাকা। জেলার অন্যতম সমাজসেবী ও রাজনীতির পরিচিত মুখ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রায় ৩০০-রও বেশি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলো রমজান ফুড প্যাকেট। উম্মাহ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও মারিফ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এবং বাঙ্গীটোলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেলে বাঙ্গিটোলা স্কলারস একাডেমির খোলা মাঠে সুসংগঠিতভাবে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দুপুর থেকেই এলাকায় উপচে পড়া ভিড়। মহিলারা, বয়স্ক মানুষ, দিনমজুর, একেবারে নিখুঁত গরীব পরিবার সকলকেই জমায়েত হন। প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, ২৫ কেজির এক বস্তা চাল, ৩ কেজি মুশুর ডাল, ৫ লিটার ফরচুন তেল, ৩ কেজি চিনি, ৩ কেজি ছোলা, ২ কেজি অর্থাৎ চার প্যাকেট খেজুর, ১ লিটার সোয়াবিন তেল, ২ কেজি সারফেক্সেল, ১ কেজি দুধের প্যাকেট, ৫০০ গ্রাম মরিচের গুঁড়ো ও ৫০০ গ্রাম জিরার প্যাকেট, ৫০০ গ্রাম হলুদের প্যাকেট, ১ কেজি চা, ৩ টি ডেটল সাবান রমজান মাসে ব্যবহৃত সামগ্রী।
উপস্থিত মানুষেরা জানান, রমজানের সময় সংসার চালানো অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দিনমজুর ও অস্থায়ী শ্রমিকদের আয় অনিশ্চিত। এই অবস্থায় এমন উদ্যোগ তাদের জন্য বড় স্বস্তি। এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, রমজানে অন্তত চিন্তা কমল। নজরুল সাহেব প্রতি বছরই আমাদের পাশে দাঁড়ান। শীতকালে, বন্যায় ও যেকোনো দুর্যোগ সময়ে আমরা তাকেই পাই। মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, রমজান সংযম ও সহমর্মিতার মাস। এই সময়ে সমাজের সচ্ছল মানুষদের উচিত অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো। আমরা চেষ্টা করেছি অন্তত কিছু পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে করা হয়েছে। পুরো কর্মসূচিতে ছিল শৃঙ্খলার ছাপ। স্বেচ্ছাসেবকরা তালিকা অনুযায়ী উপভোক্তাদের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়, সে দিকে বিশেষ নজর রাখা হয়। এছাড়াও বলেন, আগামী দিনে আরও কয়েকটি বড়ো ক্যাম্প করে রমজান ফুড দেওয়া হবে। পুরো রমজান মাস এই কর্মসূচি চলবে। শুধুমাত্র ক্যাম্প করে নয় আমাদের টিম এলাকার সমস্ত গরীব মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফুড প্যাকেট পৌঁছে দিচ্ছেন।
এলাকার বহু মানুষ নজরুল ইসলামকে “গরিবের মাসিহা” বলে অভিহিত করেন। তাঁদের দাবি, শীতকালীন কম্বল বিতরণ থেকে শুরু করে বন্যা ত্রাণ, পরিযায়ী শ্রমিকদের সহায়তা সহ বিভিন্ন সময়ে তিনি মানুষের পাশে থেকেছেন। রমজান ফুড বিতরণ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মোথাবাড়ির এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, সমাজে এখনও এমন মানুষ আছেন যারা উৎসব-অনুষ্ঠানের আনন্দ ভাগ করে নিতে চান সবার সঙ্গে। রমজানের পবিত্র আবহে বাঙ্গিটোলার এই আয়োজন যেন এক বার্তা দিয়ে গেল– সহমর্মিতাই সবচেয়ে বড়।








