কাশ্বাড়া স্কুলে সামাজিক সচেতনতা ও জনস্বার্থ বিষয়ক আলোচনা সভা
নিজস্ব প্রতিনিধি, নতুন পয়গাম, হুগলিঃ হুগলি জেলার পোলবা ব্লকের ‘কাশ্বাড়া ইয়াসিন মণ্ডল শিক্ষা নিকেতন’-এ সামাজিক সচেতনতা ও জনস্বার্থের বার্তা নিয়ে এক জাঁকজমকপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে অভিভাবকদের নিয়ে মনোজ্ঞ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষকে সামাজিক কু-অভ্যাস থেকে মুক্ত রাখা, আইনি দিক সম্পর্কে অবগত করা এবং ডিজিটাল যুগে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা।
এই অভিনব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সপ্তগ্রামের বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত, হুগলি জেলা গ্রামীণ পুলিশের ডিএসপি (ডিএনটি) প্রিয়ব্রত বক্সী, ধনিয়াখালির সিআই, পোলবার ওসি, সাইবার ক্রাইম টিমের আধিকারিক, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পার্থ ঘোষ, পোলবা দাদপুর পঞ্চায়েত সমিতির নারী ও শিশু কল্যাণ কর্মাধ্যক্ষ কাকলি মুর্মু, বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সদস্যগণ, শিক্ষক-শিক্ষিকা। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকরা বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানকে সাফল্য মণ্ডিত করেন।
তপন দাশগুপ্ত নিজের বিধায়ক তহবিল থেকে বিদ্যালয়ের সাইকেল স্ট্যান্ডের শেড নির্মাণের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ও প্রাথমিক পরিকাঠামো প্রত্যেক শিশুর অধিকার এবং এ ক্ষেত্রে তিনি সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
ডিএসপি প্রিয়ব্রত বক্সী বাল্যবিবাহ রোধ সংক্রান্ত আইন, মহিলা সুরক্ষা আইন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মাদক-মুক্তি বিষয়ে সময়োচিত জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন। তিনি অভিভাবকদের অনুরোধ জানান, তাঁরা যেন সন্তানদের প্রতি বিশেষ নজর দেন এবং নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন।
ধনিয়াখালির সিআই সাইবার প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায় এবং যানবাহন চলাচলের নিয়ম বা ট্রাফিক বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানান। তিনি অনলাইন লেনদেন ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সচেতনতা বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। পোলবার ওসি সাধারণ মানুষের প্রতি আবেদন জানান, যে কোনও অপরাধমূলক ঘটনা বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে যেন দ্রুত পুলিশকে জানানো হয়, যাতে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত অপরাধ থেকে বাঁচার পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ দেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার উন্নয়নের হাতিয়ার হলেও অসতর্কতা বিপজ্জনক হতে পারে।
এই কর্মসূচি সফল করতে বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি শামীম মণ্ডল এবং তাঁর পুরো টিমের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। প্রোগ্রাম শেষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকল অতিথিকে সম্মাননা প্রদান ও অভিভাবকদের জন্য আহারের ব্যবস্থা করা হয়।








