এসআইআর: সব রাজ্যের সিইওকে দিল্লিতে তলব
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
বিহারে ভোটার তালিকায নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হলেও এখনও চূড়ান্ত লিস্ট প্রকাশ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তবুও পশ্চিমবঙ্গে তড়িঘড়ি ‘স্যার’ এর কাজ শুরু করে দিয়েছে। এবার সারা দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক বা সিইও-কে দিল্লিতে জরুরি তলব করল জাতীয নির্বাচন কমিশন। কালিপুজো, দীপাবলি ও ভাইফোঁটার ছুটির মধ্যেই মঙ্গলবার চিঠি দিয়ে সব রাজ্য কমিশনারকে তলব করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও তার টিম। জানা গিয়েছে, বুধ ও বৃহস্পতি দু-দিন ধরে মূলত এসআইআর নিয়ে দিল্লিতে বৈঠক হবে। কিন্তু মাত্র একদিন আগে চিঠি পাঠানোয় নাখোশ রাজ্যগুলো।

সূত্রের খবর, দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে মুখোমুখি বসবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পশ্চিমবঙ্গই এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়। তবে সারা দেশে কীভাবে ‘স্যার’ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেই আলোচনাও হবে। বিহারে এসআইআর করতে গিয়ে দেশজুড়ে নির্বাচন কমিশন এত বেশি রাজনৈতিক ও আইনিভাবে বিতর্কে জড়িয়েছে, এবার সাবধানী পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবে কমিশন। এটাই আপাতত রাজ্যগুলোর সান্ত্বনা। কিন্তু তবুও বিরোধীরা সজাগ থাকছে, যাতে নির্বাচন কমিশন বিহারের মতো একতরফা লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারকে বাদ না দিতে পারে। এদিকে বঙ্গ বিজেপির দাবি, এসআইআর-এর কাজ শেষ হলেই বাংলায় বিধানসভা ভোট। সুতরাং রাজ্যে ভোট এগিয়েও আনা হতে পারে। কিন্তু নির্বাচিত রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতাসীন সরকারই থাকবে। তবে ভোট এগিয়ে আনা হলে ক্ষমতাসীন দল একটু চাপে পড়ে যাবে। কারণ, ভোটেরম মুখে সব রাজ্য সরকারই নানা উন্নয়ন ও জনমুখী প্রকল্প ঘোষণা করে। নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হলে সেগুলো আপাতত সব বন্ধ হয়ে যাবে।
![]()
তৃণমূলের অভিযোগ, এসআইআর এর নামে যাকিছু করা হচ্ছে, সবটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সপ্তাহ দুয়েক আগে কলকাতায় এসেছিল জাতীয় কমিশনের টিম। গত সপ্তাহেই জেলাগুলিকে দ্রুত ম্যাপিং অ্যান্ড ম্যাচিং প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলায় কয়েক কোটি ভোটার রয়েছে। এত বিশাল কাজ আগে থেকে পরিকল্পনা ধীরে সুস্থে না করে ভোটের মুখে তড়িঘড়ি এসব করা ঠিক নয়। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ঘর গোছাতেই ব্যস্ত থাকবে। সেই সুযোগে এসআইআরের নামে কমিশনকে দিয়ে বিজেপি তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে নেবে। বাংলায় এভাবে চালাকি করে কিছু করতে দেওয়া হবে না। একজনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়, সেজন্য কংগ্রেস, তৃণমূল এবং সিপিএম সব দলই সজাগ রয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম বঙ্গ বিজেপি। এসআইআর নিয়ে তাদের তেমন কোনো হেলদোল বা মাথাব্যথা নেই।








