হাওড়ার আমতায় কালিকাপাতাড়ি শিল্পী পিন্টু মণ্ডলের অকালপ্রয়াণে শোকের ছায়া
সেখ মইদুল আলি, নতুন পয়গাম, আমতা:
হাওড়া জেলার আমতা ব্লকের কুশবেড়িয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন এলাকার বিশিষ্ট কালিকাপাতাড়ি নৃত্যশিল্পী পিন্টু মণ্ডল। মাত্র ৩৯ বছর বয়সেই অকালমৃত্যু ঘটল এই প্রতিভাবান লোকশিল্পীর।
“কালিকাপাতাড়ি রিসার্চ অ্যান্ড প্রোমোশন সেন্টার”-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক প্রদীপ রঞ্জন রীত জানান,
“কুশবেড়িয়ার বাবা বাণেশ্বরের মন্দিরে গাজন উৎসবে প্রতিবছর কালিকাপাতাড়ি নৃত্য পরিবেশন করতেন পিন্টুবাবু। বংশপরম্পরায় তাঁর পরিবারই এই নৃত্যধারাকে জীবিত রেখেছেন। তাঁর অকালপ্রয়াণে কালিকাপাতাড়ি নাচ একটি বড় ক্ষতি হলো।”
প্রদীপবাবু আরও বলেন, “হাওড়া জেলার নিজস্ব লোকনৃত্য হল কালিকাপাতাড়ি। কিন্তু আধুনিকতার ঢেউয়ে এই ঐতিহ্য প্রায় বিলুপ্তির পথে। পিন্টুবাবুর মতো শিল্পীরা এই শিল্পরূপটিকে টিকিয়ে রেখেছিলেন।”
গত বছর গাজন উৎসবে কালিকাপাতাড়ি রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, পিন্টুবাবুর নৃত্য ঘিরে মধ্যরাতেও হাজারো মানুষের উন্মাদনা। স্থানীয় গবেষক হৃতিক হাজরা সেই সমীক্ষায় সহযোগিতা করেছিলেন।
প্রদীপবাবুর ভাষায়,
“পিন্টুবাবু ছিলেন একেবারে অকৃত্রিম লোকঐতিহ্যের ফসল ও প্রকৃত প্রতিনিধি। তাঁর প্রয়াণে হারিয়ে গেল এক নিষ্ঠাবান লোকশিল্পী, যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন মাটির শিল্পের জন্য।”
পিন্টু মণ্ডলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আমতা ও আশপাশের গ্রামাঞ্চলে গভীর শোকের পরিবেশ।








