শবে বরাত: ক্ষমা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের রাত
নতুন পয়গাম, হাসান লস্কর, কুলতলী, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ
ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত মুসলিম সমাজে ‘শবে বরাত’ বা ‘লাইলাতুল বরাত’ নামে পরিচিত। ফারসি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি বা নিষ্কৃতি। বহু মুসলিমের বিশ্বাস, এই পবিত্র রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের গুনাহ ক্ষমা করেন এবং আগামী এক বছরের জন্য রিজিক, হায়াত ও জীবনের বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করেন। মুসলিম উম্মাহর একটি বড় অংশের কাছে শবে বরাত আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ উপলক্ষ। বিশ্বাস করা হয়, এই রাতে একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করলে অতীতের ভুল ও গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করা যায় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাই ধর্মপ্রাণ মানুষজন এই রাতটি কাটান ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও তওবার মধ্য দিয়ে।
শবে বরাতে নির্দিষ্ট কোনো ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদতের বিধান নেই। তবে বহু মানুষ নফল ইবাদতের মাধ্যমে এই রাতকে অর্থবহ করে তোলেন। নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা—এই সবই শবে বরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেক আমল হিসেবে পালন করা হয়। এছাড়াও শবে বরাতের পরদিন, অর্থাৎ শাবান মাসের ১৫ তারিখে অনেকে নফল রোজা রেখে থাকেন। এই রাতকে কেন্দ্র করে ভারত, বাংলাদেশসহ মুসলিম অধ্যুষিত বহু দেশে সামাজিক ও ধর্মীয় কিছু রীতির প্রচলন রয়েছে। মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়। অনেক পরিবার গরিব-দুঃখী, প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে খাবার বিতরণ করে থাকেন। মৃত আত্মীয়-স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কবর জিয়ারত করাও এই রাতের একটি প্রচলিত আমল।
তবে শবে বরাতের ফজিলত ও পালন পদ্ধতি নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ একে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ রাত বলে মানেন, আবার কেউ একে অন্যান্য রাতের মতোই সাধারণ রাত হিসেবে বিবেচনা করেন। তবুও অধিকাংশ আলেমের অভিমত, শবে বরাত হোক বা অন্য যে কোনো রাত—আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর ইবাদত, নিজের আত্মসমালোচনা এবং ভুল-ত্রুটির জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা। শবে বরাত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—মানুষ মাত্রই ভুল করে, কিন্তু আল্লাহ তাআলার রহমত অসীম। এই রাত হোক আমাদের জন্য আত্মশুদ্ধি, সংযম ও সৎ পথে ফিরে আসার এক অনন্য সুযোগ।








