বিজেপি বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্যে উত্তপ্ত সোনামুখী
তৌসিফ আহম্মেদ, নতুন পয়গাম, বাঁকুড়া:
উত্তরবঙ্গের সাংসদ ও বিধায়কের উপর হওয়া হামলার প্রতিবাদে সোনামুখীতে রাস্তাবর অভিযোগ-প্রতিপাদক বিক্ষোভের সময় বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামীর একটি মন্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। আক্রমণাত্মক ভাষায় তিনি বলেন, ২০২৬ সালের পর উদয়ন গুহ ও কুনাল ঘোষের মতো নেতাদের “পচা মুখগুলো পুড়ে” যাবে; সেই সময় “লোকজন পাথর নয়, অ্যাসিড ছুঁড়ে মারবে” — এরকম ক্যান্ট-প্রেরণ মন্তব্য করায় সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে।
দিবাকর ঘরামীর বক্তব্য যে বলেছিল, গতকাল উত্তরবঙ্গে আক্রান্ত হওয়া বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলাকে তিনি তৃনমূল নেতাদের ক্রীড়াভিত্তিক বা সাম্প্রদায়িক প্ররোচনার ফল হিসেবে অভিহিত করেন এবং ক্ষুব্ধ জনমতকে উস্কে দেওয়ার ভাষায় উদয়ন গুহ ও কুনাল ঘোষকে সরাসরি নিশানায় আনে। তিনি বলেন, “২০২৬–এর পরে জনরোষ হবে; তখন তাদের পাথর নয়, অ্যাসিড ছুঁড়ে মারবে; তাদের পচা মুখগুলো পুড়ে যাবে।”
বিধায়কের ওই কড়া ভাষার পরে তৃনমূল কংগ্রেস তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয়। তৃণমূল সূত্রে বলা হয়েছে, “এ ধরনের উস্কানিমূলক, হিংসাত্মক ভাষা বিজেপির সংস্কৃতিরই অংশ” এবং তারা জানান—বিধায়ককে ‘ঘেরাও’ করে রাখার মতো কর্মসূচি রূপায়ণের হুমকি দেয়া হয়েছে। তৃণমূলের দাবী, দ্রুতই তারা মাঠে নেমে বিধায়ককে বিচারের আওতায় আনবে যাতে এলাকায় শান্তি বজায় থাকে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে—একদিকে সদ্য সংঘটিত উত্তরবঙ্গ হামলার ঘটনায় উত্তেজনা পুরনো আঘাতকে তীব্র করে তুলেছে, অন্যদিকে উভয় পক্ষের তীব্র ভাষাবলির ফলে পরিস্থিতি আরও ধ্রুপদি রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের কাছে নিন্দিত বলে ধরা পড়েছে; অনেকে রাজনৈতিক নেতাদের শান্তি-সংবেদনশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে প্রশাসন ও সরাসরি সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।








