ভারত-ইসরাইল চুক্তি সই, বিক্ষোভে এসএফআই
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টেম্বর:
গাজা যুদ্ধ এবং ইসরাইলি গণহত্যার প্রতিবাদে সারা বিশ্বজুড়ে যখন বিক্ষোভ প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে, বিভিন্ন দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে অথবা ইসরাইলকে বয়কট করছে, এই আবহে ইসরাইলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তিতে সই করল ভারত সরকার। সে দেশের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মার্টরিক ভারত সফরে এসেছেন। এসএফআই তার এই নয়াদিল্লি সফরের বিরোধিতায় ৮-১০ সেপ্টেম্বর দেশের সর্বত্র বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই এক প্রেস বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইল সরকার ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রায় ২ বছর ধরে লাগাতার নির্মম গণহত্যা চালাচ্ছে। প্রায় ৬৫ হাজার শিশু-নারী সহ নিরীহ সাধারণ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করছে, ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে। অথচ সেই কসাই দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ভারতের বিদেশনীতি ও আদর্শের পরিপন্থী।
এসএফআই বলছে, ভারত-ইসরাইল বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এফটিএ-র ভিত্তি স্থাপনের পক্ষে এই চুক্তি সই করেছে। যা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের এহেন অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে। উল্লেখ্য, গৌতম আদানিও বিপুল বিনিয়োগ করেছেন ইসরাইলের হাইফা বন্দরে।
এসএফআই-এর দাবি, কট্টর যায়নবাদী দেশ ইসরাইলের মন্ত্রী বা সরকারি প্রতিনিধিদের ভারতে স্বাগত জানিয়ে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। কারণ, সমঝোতা অনুযায়ী আগের তুলনায় আরও দ্রুত বিদেশের আদালতে চলে যেতে পারবে ভারতে লগ্নিকারী ইসরাইলি সংস্থা। এতদিন ভারতীয় আইন মতে আইনি জটিলতা নিষ্পত্তির ন্যূনতম মেয়াদ ছিল ৫ বছর। নতুন সমঝোতায় এই মেয়াদ কমিয়ে ৩ বছর করা হয়েছে।
এই বিনিয়োগ সমঝোতায় সরাসরি শেয়ার বাজারে লগ্নির ক্ষেত্রেও নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। এতদিন ইসরাইলি লগ্নিকারীরা বিদেশি সংস্থার শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের এই সুবিধা পেত না।
এদিকে সাফাই দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রক বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা করেছে ভারত। ইসরাইলের সঙ্গেও একই ধাঁচের সমঝোতা করা হয়েছে। পিআইবি বলেছে, লোকসানের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা মসৃণ করা হয়েছে নতুন সমঝোতায়। চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে নয়াদিল্লি বলেছে, অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য যৌথ বোঝাপড়া নিশ্চিত করা হয়েছে সমঝোতায়।








