মৌসম বদল, ‘বেনজির’ ঘর ওয়াপসি
নতুন পয়গাম, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের মুখে মালদহের রাজনীতিতে বড় চমক। প্রায় সাত বছর পর তৃণমূল ছেড়ে ফের কংগ্রেসে যোগ দিলেন মৌসম বেনজির নূর। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় কংগ্রেস ছেড়ে ঘাসফুলে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। এ বার ফের নিজের পুরনো দলে ‘ঘর-ওয়াপসি’ হল মৌসমের।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই তৃণমূল তাঁকে মালদহের হবিবপুর-সুজাপুর এলাকার কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দিয়েছিল। এর আগেও তিনি তৃণমূলের জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন এবং রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। কিন্তু সেই সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে ফের কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নিলেন মালদহের এই পরিচিত মুখ।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসে একমাত্র সাফল্য এসেছিল মালদহ থেকেই। মালদহ দক্ষিণ আসনে জয়ী হন ঈশা খান চৌধুরী। রাজ্যের বাকি অংশে কংগ্রেসের সংগঠন দুর্বল হলেও মালদহে নিজেদের ঘাঁটি ধরে রেখেছে দলটি। এই পরিস্থিতিতে মৌসম নূরের প্রত্যাবর্তন কংগ্রেসকে নতুন করে শক্তি জোগাবে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।
দিল্লির ২৪ আকবর রোডে কংগ্রেসের সদর দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলে যোগ দেন মৌসম। যোগদানের পর তিনি জানান, পরিবারের সিদ্ধান্তেই তাঁর এই প্রত্যাবর্তন। তবে তৃণমূল নিয়ে এ দিন কোনও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে দেখা যায়নি তাঁকে।
মৌসম নূর বলেন, “প্রায় ছ’বছর পর নিজের ঘরে ফিরে ভাল লাগছে। তৃণমূল আমাকে কাজের সুযোগ দিয়েছে, জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি, রাজ্যসভার সাংসদও ছিলাম। তবে আমার পরিবার বরাবর কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। মা সারা জীবন কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার কাজ করেছেন। পরিবার হিসাবে একসঙ্গে কাজ করব, এই সিদ্ধান্ত নিয়েই ফিরে এলাম। আমি কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে কৃতজ্ঞ।”
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “আজ মৌসম ঘরে ফিরেছেন। বাংলায় ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি চলছে। রাজ্য ও কেন্দ্র — দু’দিক থেকেই একই চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গনিখান চৌধুরীর আদর্শে বিশ্বাসী একজন নেত্রীর ফিরে আসা কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করবে। আজ শুধু ট্রেলার দেখা গেল, সামনে আরও অনেক কিছু দেখা যাবে।”
মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীও মৌসমের প্রত্যাবর্তনে খুশি। তাঁর কথায়, “মালদহের মানুষ দীর্ঘ দিন ধরেই চাইছিলেন মৌসম ফিরুন। তাঁর ফিরে আসায় সংগঠন আরও মজবুত হবে।” বিধানসভা ভোটের আগে এই দলবদল মালদহের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।








