কর্নাটকে নিহত পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করল এসডিপিআই প্রতিনিধি দল
শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার বার্তা, শিল্প ও কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে সরব দলনেতারা
নতুন পয়গাম, মুর্শিদাবাদ, ২০ অক্টোবর:
কর্ণাটকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো মুর্শিদাবাদের সাত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এসডিপিআই)-র প্রতিনিধি দল।
রবিবার বহরমপুর ও হরিহরপাড়া থানার অন্তর্গত বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দলের নেতৃত্ব শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন এসডিপিআই-এর জাতীয় সম্পাদক তায়েদুল ইসলাম, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ জেলা সাধারণ সম্পাদক আসিব সেখ, এবং হরিহরপাড়া বিধানসভা সভাপতি মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, ৬ অক্টোবর কর্নাটকের বেঙ্গালুরু শহরের বার্ডি করামানি এলাকায় ভাড়া নেওয়া ঘরে গ্যাস লিক থেকে আগুন লাগে। ঘটনায় গুরুতরভাবে দগ্ধ হন মুর্শিদাবাদের সাতজন পরিযায়ী শ্রমিক —
মিনারুল শেখ, তাজিবুল শেখ, হাসান মোল্লিক, জাইবুর শেখ, সাফিজুল শেখ, নূর জামাল শেখ (নাগরজোল পাঁচপীরতলা, বহরমপুর) এবং জাহিদ আলি খান (খিদিরপুর, হরিহরপাড়া)।
তাঁরা সবাই রাজমিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ অক্টোবর তাঁদের মৃত্যু হয়। নিহতদের বয়স ছিল ২৫ থেকে ৩১ বছরের মধ্যে।
পরিবারগুলির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন —
“এক সময়ের বাংলা, বিহার ও ওড়িশার রাজধানী মুর্শিদাবাদ আজ পরিযায়ী শ্রমিক তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এই জেলা ও রাজ্যকে কর্মসংস্থানহীন করা হয়েছে। রাজ্যে কাজের অভাব নেই, কিন্তু সরকার শিল্প নয়, ধর্মের রাজনীতিতে ব্যস্ত।”
তিনি আরও বলেন,
“যেখানে প্রয়োজন ছিল কলকারখানার ঘোষণা, সেখানে সরকারি কোষাগার থেকে একের পর এক মন্দির নির্মাণের ঘোষণা হচ্ছে। বাংলার মানুষ সামান্য ভাতা পেয়ে নীরব রয়েছেন, অথচ ধীরে ধীরে পুঁজিবাদের দাসে পরিণত হচ্ছেন। এর জবাব মানুষ নির্বাচনের ময়দানে দেবেন।”
এসডিপিআই নেতৃত্বের এই সফরে স্থানীয়ভাবে শোকের আবহের মধ্যেও উঠে আসে কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও শ্রমিক কল্যাণ নিয়ে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের বার্তা।









