এসডিপিআই ঘৃণার বিরুদ্ধে বিচারব্যবস্থার পাশে সর্বদা আছে
নতুন পয়গাম, নতুন দিল্লী:
সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার জাতীয় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাফি আজ সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম চলাকালীন ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) বি. আর. গাভাইয়ের ওপর অ্যাডভোকেট রাকেশ কিশোরের জুতা নিক্ষেপের ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড কোনো আকস্মিক উত্তেজনার ফল নয়, বরং এটি ডানপন্থী চক্রের পরিকল্পিত আক্রমণ, যার উদ্দেশ্য বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতাকে খর্ব করা এবং আমাদের গণতন্ত্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে দুর্বল করে দেওয়া।
ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছিল প্রধান বিচারপতির এক নীতিগত রায় থেকে, যেখানে তিনি খাজুরাহোর একটি মন্দিরে ভগবান বিষ্ণুর প্রতিমা পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়ে করা একটি অযৌক্তিক জনস্বার্থ মামলা (PIL) খারিজ করে দেন। তিনি যথাযথভাবে উল্লেখ করেন যে, এই বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ (ASI)-এর এখতিয়ারকে সম্মান জানানো উচিত এবং সেনসেশনালিজম বা আবেগের বশে নয়, আইনের পথে এগোনোই একমাত্র সঠিক পথ। পরে তিনি সর্বধর্মে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর মন্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন। কিন্তু ডানপন্থী প্রোপাগান্ডা মাধ্যমগুলি—যেমন OpIndia—এবং তথাকথিত “হিন্দু ক্ষোভ” উস্কে দেওয়া কর্মীরা সেই মন্তব্যকে বিকৃত করে বিচারব্যবস্থাকে “অ্যান্টি-হিন্দু” হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চালায়। এর ফলে সমাজে ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতাকে রক্ষাকারী বিচারপতিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার পরিবেশ তৈরি হয়। এই প্রবণতা আসলে ডানপন্থী আগ্রাসনের বৃহত্তর চিত্রের অংশ, যা সংখ্যালঘু, ভিন্নমতাবলম্বী ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আক্রমণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে।
এই আক্রমণ ভারতের সংবিধানের অন্যতম স্তম্ভ—আইনের শাসন—এর ওপর সরাসরি হুমকি। প্রধান বিচারপতির মতো জেড-প্লাস নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিও যদি আদালতের অভ্যন্তরে নিরাপদ না থাকেন, তবে তা বিচারব্যবস্থাকে ভয় দেখিয়ে শাসক গোষ্ঠীর অনুগত করে তোলার এক চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়। এর মাধ্যমে নির্বাচনের আগে ধর্মীয় মেরুকরণের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনা আমাদের ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়গুলোর স্মৃতি ফিরিয়ে আনে—যেমন জরুরি অবস্থার সময়ের নিপীড়ন ও সাম্প্রতিক কালে কর্ণাটকসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিচারকদের ওপর জনতার হামলার ঘটনা।
SDPI এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে, যাতে কোনো সংগঠিত ষড়যন্ত্র আছে কি না তা উদ্ঘাটিত হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা রক্ষায় আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমরা সকল ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে আহ্বান জানাচ্ছি—এই ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন। বিচারব্যবস্থা আমাদের সবার ন্যায়বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল—এটিকে ধর্ম, বর্ণ বা বিশ্বাস নির্বিশেষে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
মোহাম্মদ শাফি
জাতীয় সহ সভাপতি
এসডিপিআই








