মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা
নতুন পয়গাম, কলকাতা: মানসম্মত শিক্ষা, কার্যকর নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক কমপ্লায়েন্স শক্তিশালী করার লক্ষ্যে শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতার আবদুল ফাত্তাহ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হল একদিনের “School Management Training Workshop”। Human Welfare Foundation (HWF), New Delhi-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রায় ২০টি বেসরকারি স্কুল থেকে ৫০ জন পরিচালকমণ্ডলীর সদস্য, প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও তারজুমার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য ও কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পর্বের মাধ্যমে পারস্পরিক মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রথম অধিবেশনে “Pedagogical Leadership and Academic Excellence” বিষয়ের উপর বিশদ আলোচনা করেন শিক্ষাবিদ মেচবাহার শেখ, যিনি ইউনিসেফ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা প্রকল্প (শিশু শিক্ষা মিশন ও সর্বশিক্ষা মিশন)-এর প্রাক্তন পরামর্শক। তিনি জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ও জাতীয় কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক (NCF)-এর আলোকে শিক্ষণ-পদ্ধতির আধুনিকীকরণ, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, একাডেমিক সুপারভিশন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এছাড়াও শিক্ষক পারফরম্যান্স সিস্টেম, N0C প্রক্রিয়া, আধুনিক শিক্ষণ কৌশল এবং রিমেডিয়াল স্ট্র্যাটেজি নিয়ে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা হয়।
“Strategy for Self-Sustain Institutional Model” শীর্ষক সেশনে বক্তব্য রাখেন এম. সাজিদ (Director, Vision 2026)। তিনি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কীভাবে আর্থিক, মানবসম্পদ ও পরিকাঠামোগতভাবে সুসংগঠিত ও স্বনির্ভর করা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। ভিশন নির্ধারণ, কৌশলগত পরিকল্পনা, নেতৃত্বের ভূমিকা, নীতিনির্ধারণ, স্কুল ব্র্যান্ডিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি এবং কমিউনিটি সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কার্যকর অপারেশনাল ম্যানেজমেন্ট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপরও আলোকপাত করা হয়।
আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে শুধু একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জন করলেই চলবে না; পাশাপাশি সুশাসন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আর্থিক পরিকল্পনাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে স্কুল ম্যানেজমেন্ট টিমগুলো যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালার আয়োজনের দাবি জানান।








