ধূপগুড়িতে তৃণমূলের SC OBC সেলের কর্মী সম্মেলন, কোর কমিটির একাংশের অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা
নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়ি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে ধূপগুড়িতে SC OBC সেলের উদ্যোগে এক কর্মী সম্মেলন। তবে এই সম্মেলনে তৃণমূল কংগ্রেসের ধূপগুড়ি ব্লক কোর কমিটির চার সদস্যের অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। ধূপগুড়ি কমিউনিটি হলে পুণ্যশ্লোক মঞ্চে অনুষ্ঠিত এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে টাউন ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের এসসি ও ওবিসি কমিটি। স্বর্গীয় চন্দ্রকান্ত রায়ের স্মৃতিতে পুষ্পার্ঘ নিবেদনের মাধ্যমে সম্মেলনের সূচনা হয়। সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস এসসি ও ওবিসি কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ দাস। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা অশোক বর্মন, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অরুপ দে সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব।
বিজেপির বিরুদ্ধে সভার ডাক দেওয়া হলেও, সভার শুরু থেকেই একাধিক নেতৃত্বের বক্তব্যে ধূপগুড়ির বর্তমান বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ পায়। বক্তারা দাবি করেন, আগামী ধূপগুড়ি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হলে তার দায় বর্তমান বিধায়কের ওপরই বর্তাবে। একের পর এক বক্তৃতায় উঠে আসে গোষ্ঠী কোন্দল, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং নিচু তলার কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বদের যোগাযোগের অভাবের অভিযোগ। অনেক কর্মীই অভিযোগ করেন, সমস্যায় পড়লে শহরের নেতারা পাশে দাঁড়ান না। এই কর্মী সম্মেলনে দেখা যায়নি তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং সহ কোর কমিটির একাধিক সদস্যকে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। তবে কোর কমিটির সদস্যদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জেলা এসসি ও ওবিসি সেলের সভাপতি কৃষ্ণ দাস জানান, সকলকেই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কেন তাঁরা উপস্থিত হননি, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তাঁর দাবি, সম্ভবত অন্য কাজে ব্যস্ত থাকার কারণেই তাঁরা আসতে পারেননি।
অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং বলেন,“আজকের সভায় আমি উপস্থিত থাকতে পারিনি। এসআইআর সংক্রান্ত কাজে অন্যত্র ব্যস্ত ছিলাম, সেই কারণেই যাওয়া সম্ভব হয়নি।” তবে কোর কমিটির অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষ্ণ দাস বলেন,“হরঘরে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে যাতে কর্মীরা তাঁদের মনের কথা খুলে বলতে পারেন। কোথায় কী দুর্বলতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে ধূপগুড়িতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য। সমস্ত বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত।”
সম্মেলনে কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিপুল জনসমাগম দেখে নেতাদের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ধূপগুড়িতে জয়ী হবে। সম্মেলন শেষে কর্মী ও সমর্থকদের জন্য মধ্যাহ্নভোজনের আয়োজন করা হয়। মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, বাঁধাকপির ঘন্ট, ডিম ও মাংস। সার্বিকভাবে, এই কর্মী সম্মেলন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধির বার্তা দিলেও, কোর কমিটির একাংশের অনুপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক ও রাজনৈতিক তরজা আপাতত থামার কোনো লক্ষণ নেই।








