জোট-জট ছাড়াতে পাটনায় শাহী বৈঠক
নতুন পয়গাম, পাটনা ও দিল্লি,
১৯ সেপ্টেম্বর: গত সপ্তাহে আচমকা কয়েকটি আসনে একতরফা প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ দলের সুপ্রিমো নীতীশ কুমার। রামবিলাস পাসোয়ানের ছেলে চিরাগ পাসোয়ান তার এলজেপি দলের হয়ে বেশ কিছু আসন পেতে জিদে অনড়। হ্যাম পার্টির একমাত্র সাংসদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতন রাম মাঝিও খান পঞ্চাশেক আসন পেতে চাইছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস পার্টি লালু প্রসাদ যাদবদের নিয়ে সর্বাত্মক জোট করতে নিজেদের প্রাপ্য আসনও ছাড়তে রাজি বলে নমনীয় মনোভাব নিয়ে চলেছে।
সব মিলিয়ে বিহারে জোটের জোট ক্রমেই তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে এনডিএ শিবিরে। মেরেকেটে আড়াই মাস পর বিধানসভা নির্বাচন। অথচ এখনও বিহারে আসনরফা চূড়ান্ত করতে পারেনি এনডিএ শিবির। যার অন্যতম কারণ শরিকি বিবাদ। ছোট শরিকের বড় দাবি, আবার বড় শরিকের ছোট্ট আর্জি। এসব সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাটনা গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির সেকেন্ড ইন কমান্ড অমিত শাহ দেখা করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সঙ্গে।
বিহারে এনডিএ-র বড় শরিক দুই দল হল বিজেপি এবং জেডিইউ। বিজেপির আসন সংখ্যা বেশি হলেও ক্ষমতা ধরে রাখতে নীতীশকেই গদিতে রাখেন। নীতীশও কেন্দ্রের থেকে মোটা পাওনাগন্ডার আশায় জোটসঙ্গী লালু যাদবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে পদ্মাসনে বসেন। এখন ঝোট বুঝে কোপ মারতে চেয়ে বিজেপির থেকে ছোট শরিক হয়েও বেশি আসনের বানা করছন নীতীশ কুমার।
শেষবার ২০২০ সালের বিধানসভা ভোটে বিহারে এনডিএ শিবিরে সবচেয়ে বেশি ৭৪টা আসন পেয়েছিল বিজেপি। নীতীশের জেডিইউ পেয়েছিল ৪৩টি। এদিকে এনডিএ-র ছোট শরিক চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি-র দাবি অন্তত ৪০ আসন। এছাড়াও জিতন রাম মাঝি, উপেন্দ্র কুশওয়াহর মতো একেবারেই প্রায় চালচুলোহীন দলগুলো ১৫-২০টা করে আসন চাইছে। যৌথ পরিবারে এভাবে সবার বায়নাক্কা মেটাতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে বিজেপির। তাই হন্তদন্ত হয়ে বিহারে ছুটে গেলেন অমিত শাহ। এদিন আসরে নেমেই প্রথমে নীতীশের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাতে মোটামুটি স্থির হয়েছে, নীতীশের জেডিইউ এবং বিজেপি সমান সমান ১০০ আসনে লড়তে পারে। বাকি ৪২ আসন ভাগাভাগি হবে চিরাগ পাসওয়ান, জিতন রাম মাঝি, উপেন্দ্র কুশওয়াদের মধ্যে। ২৫ থেকে ২৮টা পেতে পারে চিরাগ। তবে চিরাগ ৩৫-এর কম নিতে রাজি নয়। জিতন মাঝি ও কুশওয়াহকে ৭টি করে আসন দেওয়া হলেও তারা ১৫-এর কম মানতে চাইছেন না।








