কুখ্যাত নেলি গণহত্যার ৪২ বছর অসম বিধানসভায় পেশ হবে রিপোর্ট
নতুন পয়গাম, গুয়াহাটি:
দীর্ঘ ৪২ বছর পর অসম বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে কুখ্যাত নেলি গণহত্যার রিপোর্ট। নভেম্বরেই চার দশক আগের সেই ত্রিভুবন প্রসাদ তিওয়ারি কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিজেপি সরকার। উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে অসমে ‘বিদেশি হঠাও অভিযান’ বিক্ষোভের সময়ে অসমের নেলিতে ২-৩ হাজার মুসলিমের প্রাণহানি হয়েছিল। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল শিশু ও মহিলা। তার পরবর্তী ঘটনার তদন্তে তিওয়ারি কমিশন গঠন করেছিল তদানীন্তন অসম সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, ওই রিপোর্টের কপিতে ত্রিভুবন প্রসাদ তিওয়ারির স্বাক্ষর ছিল না। ফলে সেটি আসল কিনা তা নিয়ে ধন্ধে ছিল পরবর্তী সরকারগুলি। আমরা এই রিপোর্টের সঙ্গে যুক্ত সরকারি অফিসারদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। রিপোর্টটির ফরেন্সিক পরীক্ষাও হয়েছে। তারপরেই রিপোর্টটি আসল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, অসম থেকে বাঙালি বিতাড়নের উদ্দেশে ৮০-র দশকে অসমে ঘটেছিল মর্মান্তিক নেলি গণহত্যার ঘটনা। ১৯৮৩ সালে অসমের বাঙালি অধ্যুষিত গ্রাম নেলি এবং আশেপাশের আরও কিছু গ্রামে অসমের মানুষেরা শসস্ত্র অভিযান চালায় এবং এক রাতে প্রায় ৩ হাজার বাঙালি তথা বাংলাভাষী মুসলিমকে হত্যা করে। সেই শিহরণ জাগানে গণহত্যার রিপোর্ট অবশেষে ৪২ বছর পর পেশ করা হবে অসম বিধানসভায়।
জানা গিয়েছে, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিভুবন প্রসাদ তিওয়ারি কমিশনের রিপোর্ট পেশ করবেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর কথায়, রিপোর্টটি বিধানসভায় পেশ করা দরকার। কারণ, এটি আমাদের ইতিহাসের অংশ। এই রিপোর্ট থেকে মানুষ জানতে পারবেন যে ওই সময় ঠিক কী ঘটেছিল।‘
উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির নেলি গণহত্যা অসমের ইতিহাসের একটি কালিমালিপ্ত সময়। আহম রাজবংশের পর ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে আসে অসম। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহার থেকে শ্রমিকদের নিয়ে এসে চা-বাগানে নিয়োগ করত ব্রিটিশরা। অসমের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশ থেকেও অনেক মানুষ অসমে এসে বসবাস করতে শুরু করেন।
ভারত স্বাধীন হওয়ার পর তারা অসমের বাসিন্দা হিসাবে ভোটাধিকারও পান। ৮০-র দশকে বাঙালিদের অসম থেকে বিতাড়িত করার জন্য অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বা এএসইউ-এর নেতৃত্বে জাতি ও ভাষা বিদ্বেষী আন্দোলন শুরু হয়। তাদের দাবি ছিল, বাঙালিদের অসমের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এই দাবি তুলে নির্বাচন বয়কট করেছিল এএসইউ।
এরপরেও নগাঁও জেলার নেলি এবং অন্যান্য মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামের বাসিন্দারা
ভোট দিতে থাকেন। ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতের অন্ধকারে প্রায় তিন হাজার বাঙালি তথা বাংলাভাষী মুসলিমকে হত্যা কার হয়। তদন্ত চলাকালে পুলিশ অনেককে গ্রেপ্তার করে, কিন্তু গণহত্যা সংক্রান্ত মামলাগুলির বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি। এরপর রাজ্যবাসীর বিক্ষোভের কারণে, পরবর্তী সরকারেরা নেলি গণহত্যা সংক্রান্ত সব মামলা প্রত্যাহার করেছিল। কিন্তু বিভিন্ন থেকে প্রশ্ন উঠছে বিশ্বশর্মা শুরু থেকেই কট্টর বাঙালি ও মুসলিম বিদ্বেষী। সুতরাং তার আমলে পেশ হতে যাওয়া এই রিপেআর্ট আদৌ কতটা নিরপেক্ষ হবে। নাকি নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়বে।








