চপারের কোপ সহ্য করেও ছিনতাইকারীকে ধরলেন র্যাপিডো চালক
হাসান লস্কর বাবলু, উজ্জ্বল বন্দোপাধ্যায়, সোনারপুর–বারুইপুর:
রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর–বারুইপুর বর্ডার এলাকার মালঞ্চে র্যাপিডো চালকের ফোন ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়। বাধা দিতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের কোপে রক্তাক্ত হলেও শেষ পর্যন্ত ছিনতাইবাজদের ধরতে সক্ষম হন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ মল্লিকপুর ফরিদপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ মেহবুব র্যাপিডো চালিয়ে যাত্রী নামিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কুলপি রোডের মালঞ্চ এলাকায় হঠাৎই একটি বাইকে চড়ে দুই নাবালক ছিনতাইবাজ তাঁর গাড়ির হ্যান্ডেল ধরে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে তারা ধারালো অস্ত্র বের করে বেপরোয়াভাবে মেহবুবের পিঠে কোপাতে থাকে। একসময় মোবাইল কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে তারা।
রক্তাক্ত অবস্থায়ও মেহবুব হাল ছাড়েননি। তিনি চিৎকার করতে করতে ছিনতাইকারীদের পিছু নেন। তাঁর চিৎকার শুনে এলাকাবাসী বাইক নিয়ে ধাওয়া করে দুই নাবালককে ধরে ফেলে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় সোনারপুর থানার পুলিশ। দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মেহবুবকে গুরুতর জখম অবস্থায় সুভাষগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধৃতরা মল্লিকপুর এলাকার নাবালক। পুলিশ তাদের জেরা করে ঘটনাস্থল সংলগ্ন একটি মাঠ থেকে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। ধৃতদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে এর আগে চপার দিয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে বলেও সূত্রের দাবি। সোমবার সোনারপুর থানার পুলিশ তাদের বারুইপুর আদালতে তোলে।
এই ঘটনায় হতবাক স্থানীয় মানুষজন। রাতের অন্ধকারে ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে নাবালকদের সম্পৃক্ততা দেখে পুলিশও বিস্মিত।








