সংসদে রাহুলকে রুখতে ল্যাজে গোবরে রাজনাথ, শাহ, বিড়লা
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সাক্ষী থাকল লোকসভা। দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণের ‘অপ্রকাশিত’ আত্মজীবনী ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’-র কিছু অংশ উদ্ধৃত করাকে কেন্দ্র করে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।
সোমবার লোকসভায় বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য কংগ্রেসের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুললে পাল্টা বক্তৃতা দিতে ওঠেন রাহুল গান্ধী। তিনি তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে প্রাক্তন সেনাপ্রধান নরবণের অপ্রকাশিত বইয়ের একাংশ পড়তে শুরু করেন। বিশেষ করে ২০১৭ সালের ডোকলাম সংকটের সময় চিনা ট্যাঙ্কের ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ার যে চাঞ্চল্যকর দাবি বইটিতে রয়েছে, রাহুল সেটিকেই হাতিয়ার করে সরকারকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেন।
রাহুল গান্ধী উদ্ধৃতি দেওয়া শুরু করতেই প্রবল আপত্তি জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তিনি অত্যন্ত কঠোর সুরে বলেন, “বইটি কি আদৌ প্রকাশিত হয়েছে? যা এখনও প্রকাশ পায়নি, তা সংসদীয় নথিতে উদ্ধৃত করা যায় না।” রাজনাথের সুর মিলিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রশ্ন তোলেন, অপ্রকাশিত ও অপ্রমাণিত নথির ওপর ভিত্তি করে কেন রাহুল সভাকে বিভ্রান্ত করছেন। শাসক ও বিরোধী বেঞ্চের প্রবল হইচইয়ের মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থাকলেও তিনি নীরব ছিলেন।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের যুক্তিতে সায় দিয়ে জানান, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী অপ্রকাশিত বা অপ্রমাণিত কোনো বই বা সংবাদপত্রের প্রতিবেদন সরাসরি পাঠ করা যায় না। রাহুল গান্ধী বইটির মূল মর্মার্থ পড়ার বিশেষ অনুমতি চাইলেও স্পিকার তা খারিজ করে দেন এবং তাঁকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ থাকতে নির্দেশ দেন।
কংগ্রেসের কে.সি বেণুগোপাল এবং সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব রাহুলের সমর্থনে সরব হয়ে ‘বাক স্বাধীনতা’র সওয়াল করলেও স্পিকার অনড় থাকেন। চরম হট্টগোল ও বাদানুবাদের জেরে স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসেবে অখিলেশ যাদবের নাম ঘোষণা করেন এবং পরিস্থিতি সামলাতে দুপুর ৩টে পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়।








