পুতিনের বিমান যেন রাজপ্রাসাদ কী আছে এই বিশেষ উড়োজাহাজে?
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে অবতরণ করেছেন। ইন্দো-রুশ ২৩তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি ভারতে এলেন। আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ রাতে রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য ব্যক্তিগত নৈশভোজের আয়োজন করছেন। আগামীকাল থাকছে রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজ।

বর্তমান বিশ্বের সবথেকে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রপ্রধান হলেন পুতিন। তাই তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত রাষ্ট্রনেতা বলে মনে করা হয়। প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দুটি প্রতীক ছাড়া খুব কমই বিদেশ ভ্রমণ করেন। একটি হচ্ছে তাঁর বর্মসজ্জিত লিমুজিন ‘অরাস সেনাট’ নামে বহুমূল্যবান চারচাকা গাড়ি এবং অন্যটি হচ্ছে তাঁর জন্য বিশেষভাবে তৈরি বিমান ইলিউশিন আইএল: ৯৬-৩০০ পিইউ। এটি আবার ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বা ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ নামে পরিচিত। এই দৈত্যাকার উড়োজাহাজে চড়েই তিনি ভারত সফরে এসেছেন। যা আদতে একটি রাজপ্রাসাদ।
পুতিনের উড়োজাহাজটি হল ইলিউশিন আইএল মডেলের একটি বিশেষ পরিবর্তিত সংস্করণ। এটি হল ১৯৮০-এর দশকে ইলিউশিন ডিজাইন ব্যুরোর তৈরি দূরপাল্লার, চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট রুশ এয়ার। এটি প্রথম ১৯৮৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশে উড়েছিল এবং ১৯৯০-এর দশকের প্রথম দিকে পরিষেবা শুরু করে।
)
এর দৈর্ঘ্য ৫৫.৩৫ মিটার বা ১৮০.৪৬ ফুট এবং ডানা বা উইংস্প্যান ৬০.১২ মিটার বা ১৯৭.০২ ফুট। এটি চারটি টার্বোফ্যান ইঞ্জিনের মাধ্যমে চালিত। জ্বালানি বা পেট্রোল না ভরেও এই উড়োজাহাজ প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার টানা উড়তে পারে, যা এটিকে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক রুট উড্ডয়নের সক্ষমতা দেয়।
এটি তৈরি করেছে উড়োজাহাজ ভোরোনেজ এয়ারক্রাফ্ট প্রোডাকশন অ্যাসোসিয়েশন। এটি রাশিয়ার বিশেষ ফ্লাইট স্কোয়াড্রনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যারা রুশ প্রেসিডেন্টের সব ভ্রমণের ব্যবস্থা করে থাকে।
জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় সম্পূর্ণ একটি মোবাইল কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই উড়োজাহাজে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে, যা সারা বিশ্বের সামরিক, গোয়েন্দা ও সরকারি নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে সুরক্ষিত যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম।
উড়োজাহাজটি নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে সুরক্ষিত স্যাটেলাইট লিংক এবং সুরক্ষিত রেডিও-ডেটা চ্যানেল ব্যবহার করে। এর ককপিটে ছয়টি মাল্টিফাংশন এলসিডি ডিসপ্লে রয়েছে। উন্নত হ্যান্ডলিং ও নিরাপদ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জেটটিতে ‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার’ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এই হাইফাই বিমানে ইলেকট্রনিক কাউন্টারমেজার এবং রাডার-জ্যামিং প্রযুক্তিসহ উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে।

যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলার জন্য ইনফ্রারেড ডিকয় লঞ্চার অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই উড়োজাহাজ সুরক্ষিত। বিমানটি ইলেকট্রনিক্স ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক পালসের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত। এর সিটে বসেই রুশ প্রেসিডেন্ট আকাশ থেকে সামরিক আদেশ জারি করার সুবিধা পান।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এই উড়োজাহাজে একটি পারমাণবিক কমান্ড ইন্টারফেস রয়েছে। শুধুমাত্র চরম ও ইমার্জেন্সি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে।
বিমানটির ভেতরে রয়েছে শয়নকক্ষ-সহ প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত স্যুট, বোর্ডরুমে বসার ব্যবস্থা-সহ বড় কনফারেন্স রুম, প্রেসিডেন্টের অফিস, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য গেস্ট লাউঞ্জ, বিলাসবহুল বাথরুম। এ ছাড়া রান্নাঘর ও খাবারের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা, চিকিৎসা সুবিধা বা মেডিক্যাল কক্ষ, ব্যায়ামের জন্য ফিটনেস বা জিম স্পেস ইত্যাদি।
এছাড়াও এতে রয়েছে সোনার প্লেট বসানো ফিটিংস, দামি কাঠের কাজ, নিওক্ল্যাসিক্যাল আসবাব, ট্যাপেস্ট্রি ও শিল্পকর্ম, প্রিমিয়াম চামড়া ও গৃহসজ্জার সামগ্রী।








