বসিরহাটে পুজো কার্নিভাল
জমকালো শোভাযাত্রায় উপচে পড়া ভিড়
নিজস্ব প্রতিবেদন, নতুন পয়গাম, বসিরহাট:
বসিরহাটে এ বছরও অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য ও জমজমাট দুর্গাপুজো কার্নিভাল। শনিবার সন্ধ্যায় বসিরহাট প্রান্তিক ময়দানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে কার্নিভালের উদ্বোধন করেন বসিরহাটের পুলিশ সুপার ড. হোসেন মেহেদী রহমান। উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট মহকুমা শাসক আশীষ কুমার, বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক ড. সপ্তর্ষি ব্যানার্জি, হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল, বসিরহাট পৌরসভার চেয়ারপার্সন অদিতি মিত্র, প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীর সরকার, সমাজসেবী কাউন্সিলর সৌমিক রায় অধিকারী সহ পৌরসভার একাধিক কাউন্সিলর ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনের পর শুরু হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্ব। এদিন মোট ১৫টি পূজো কমিটি তাদের সৃজনশীলতা ও শিল্পপ্রতিভার প্রদর্শন করেন গান, নৃত্য ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে। শুধুমাত্র পূজো নয়, স্থানীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যকেও সামনে আনার উদ্দেশ্যেই আয়োজিত হয়েছিল এই কার্নিভাল।
রঙিন আলোকসজ্জায় মোড়া শহরজুড়ে শুরু হয় শোভাযাত্রা— প্রান্তিক ময়দান থেকে বোর্ডঘাট পর্যন্ত। পথে পথে ঢাকের তালে তালে নেচে ওঠেন শিল্পীরা, দর্শকদের ভিড় জমে রাস্তার দু’ধারে। আলোকসজ্জা, সজ্জিত প্রতিমা, ঢাকের বাদ্য আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবের আবহে ভরে ওঠে গোটা শহর।
বোর্ডঘাটে পৌঁছে কার্নিভাল শেষ হলে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্লাবকে সংবর্ধনা জানায় প্রশাসন। পুলিশ সুপার ও মহকুমা শাসক তাঁদের হাতে ফুল, মিষ্টি ও স্মারক তুলে দেন। কর্মকর্তারা জানান, এমন উদ্যোগ বসিরহাটের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও দৃঢ় করবে এবং নবীন প্রজন্মকে উৎসবের সঙ্গে যুক্ত রাখবে।
বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক ড. সপ্তর্ষি ব্যানার্জি বলেন, “এটি শুধু পূজো কার্নিভাল নয়, মানুষের মিলনমেলা। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি এটি সামাজিক ঐক্যের প্রতীক।” পুলিশ সুপার ড. হোসেন মেহেদী রহমানও উৎসব উপভোগে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
কার্নিভাল ঘিরে বসিরহাটের রাস্তায় ছিল চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা ও জমজমাট ব্যবসার পরিবেশ। দোকানপাট, হকার— সবার মধ্যেই উৎসবের আনন্দে উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া।
সব মিলিয়ে, বসিরহাটের পুজো কার্নিভাল এবারও শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবেই নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করল।








