গণবিক্ষোভে উত্তাল ইসরাইল জিম্মি মুক্তির পথে একমাত্র বাধা নেতানিয়াহু
নতুন পয়গাম, তেলআবিব, ১৪ সেপ্টেম্বর:
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হামাসের হাতে এখনো পণবন্দি বা জিম্মি ইসরাইলিরা মুক্তি পায়নি। শান্তি চুক্তির পথে একমাত্র বাধা দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। জিম্মি ও নিখোঁজ ইসরাইলি পরিবারের সদস্যদের সংগঠন ‘দ্য হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম’ এই অভিযোগ এনে রবিবার রাজধানী তেলাআবিব শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করল। এদিন কয়েক হাজার মানুষ ‘নেতানিয়াহু হটাও, জিম্মি বাঁচাও’ স্লোগান দিয়ে হাতে ইসরাইলের জাতীয় পতাকা ও পোস্টার, ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে।
ফোরামের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়েছে, ‘গত সপ্তাহে কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরাইলি হামলা থেকে এটাই প্রমাণ হয়, প্রতিবার যখনই যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়, নেতানিয়াহু সরকার তখনই সেটি ভন্ডুল করে দেন।’ গত মঙ্গলবার ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইল। শনিবার নেতানিয়াহু বলেন, কাতারে হামাস নেতাদের নির্মূল করা গেলে জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধের অবসানে প্রধান বাধা দূর হবে। হামাস যুদ্ধবিরতির সব চেষ্টা ভেস্তে দিয়ে গাজা যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার এসব দাবি নস্যাৎ করে নেতানিয়াহুর পদত্যাগের পাল্টা দাবিতে ইসরাইলি নাগরিকদের একাংশ এদিন বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
কাতারে হামলার পর রবিবার মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরাইল সফরে গিয়েছেন। কাল সোমবার তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, কাতারে হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ইসরাইল ও আমেরিকা। আবার কাতারে হামলার পক্ষে নেতানিয়াহুর যুক্তি মানতে নারাজ জিম্মিদের স্বজনেরা বলেছেন, জিম্মিদের মুক্ত করতে ব্যর্থ নেতানিয়াহু। তাদের মুক্তির পথে প্রধান বাধা নেতানিয়াহু। এই ব্যর্থতা ঢাকতেই কাতারে হামলা করে নতুন অজুহাত দেখাচ্ছেন। হামাসের কাছে এখনও প্রায় ৫০ জন জিম্মি আটকে রয়েছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকজন মারা গিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। হামাস চাইছে, ইসরাইলের কারাগারে দীর্ঘকাল আটকে থাকা ৪০০ শিশু-সহ প্রায় ১৪ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে ফেরত দিতে হবে। তবে তারা ইহুদি জিম্মিদের ফেরত পাঠাবে। এদিকে জিম্মিদের পরিবারগুলো বলছে, নিজের মসনদ টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু একের পর এক মিথ্যা অজুহাত দেখাচ্ছেন। তার জন্যই এখনও বেঁচে থাকা জিম্মিদের মুক্তি হচ্ছে না।








