‘এসআইআর-বিরোধী গণ আন্দোলন’-এর ডাকে ৫ নভেম্বর ধর্মতলায় প্রতিবাদ-সভা, অংশ নিচ্ছে ৬০টিরও বেশি সংগঠন ও সংস্থা
নতুন পয়গাম, কলকাতা: এসআইআর-এর নামে এনআরসি বাতিল করো। এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী ও নিহতদের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। এসব দাবির ভিত্তিতে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে এসআইআর-বিরোধী গণ আন্দোলন। সোমবার এক প্রেস বিবৃতিতে সংগঠনের তরফে জানানো হয়, বুধবার ৫ নভেম্বর দুপুর আড়াইটা নাগাদ এসআইআর বিরোধী গণ আন্দোলনের ডাকে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে কলকাতা কর্পোরেশনের পাশে, ধর্মতলা এলিট সিনেমার বিপরীতে। এই সভায় উপস্থিত থেকে এসআইআর বিরোধী আন্দোলনে রাস্তায় নেমে লড়াইয়ের শরিক হতে সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনের তরফে ওই প্রেস বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশন বাংলায় এসআইআর করার প্রকল্প নিয়েছেন। বিহারের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, এসআইআর আসলে নামান্তরে এনআরসি। অর্থাৎ বাংলার নাগরিকদের বে-নাগরিক করার পরিকল্পনা। বিহারে এসআইআর ঘোষণা করার পর কলকাতার রিজেন্ট পার্কের বাসিন্দা দিলীপকুমার সাহা গত ৩ আগস্ট আত্মহত্যা করেন। পানিহাটি উত্তর ২৪ পরগণার বাসিন্দা প্রদীপ কর (৫৭ বছর) গত ২৮ অক্টোবর এবং বীরভূমের ইলামবাজারের বাসিন্দা ক্ষিতীশ মজুমদার (৯৫ বছর) আত্মহত্যা করেন। এই মৃত্যুমিছিল ২০১৯ সালের সিএএ-এনআরসি ঘোষণার পরে ২৬ জন নাগরিকের আত্মহননের ভয়ঙ্কর স্মৃতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়।
পাশাপাশি আমরা দেখছি, গরীব শ্রমিক-সহ বাঙালিদের প্রবাসে হেনস্থার ঘটনাপ্রবাহ। এইসব কুচক্রী ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার ৫ নভেম্বর দুপুর আড়াইটের সময় এসআইআর বিরোধী গণ আন্দোলনের ডাকে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে কলকাতা কর্পোরেশনের পাশে, ধর্মতলা এলিট সিনেমার বিপরীতে। আমরা চাই, অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি বাংলার লিটল ম্যাগাজিন, সাহিত্যকর্মী, নাট্যকর্মী, শিল্পী, শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র-ছাত্রী, মহিলা, দলিত, মুসলিম, আদিবাসী, বিভিন্ন গণসংগঠন-সহ বাংলার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে এই আন্দোলনে যোগদান করার আবেদন জানাচ্ছি।

এসআইআর বিরোধী গণ আন্দোলন-এর পক্ষে এই বিবৃতিতে যেসব সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে:
হকার সংগ্রাম কমিটি এন.এইচ.এফ. (NHF), অল ইন্ডিয়া উইমেন হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গীয় পারস্পরিক কারু ও বস্ত্রশিল্পী সংঘ, মহিলা স্বরাজ, স্বরাজ অভিযান, ফ্রেন্ডস্ অব ডেমোক্রেসি (FOD), ভারত জোড়ো অভিযান, বন্দীমুক্তি কমিটি, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা, APCR, ফোরাম ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড কমিউনাল অ্যামিটি, সংগ্রামী আদিবাসী মঞ্চ, অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াত, সুন্দরবন আদিবাসী জাগরণ সমিতি, আদিবাসী মানবাধিকার সংগঠন, বিজল্প, জমিয়তে আহলে হাদীস পশ্চিমবাংলা, জ্ঞানগঞ্জ, স্বরাজ ইন্ডিয়া, সারনা আদিবাসী ঐক্য পরিষদ, আদি লোক মঞ্চ, দিনাজপুর নাট্য সমাজ, বীরবাহা জিয়ো জাদৌসি আখড়া, ইউনাইটেড গার্ডিয়ান কাউন্সিল (UGC), গঙ্গারামপুর লোক চৈতন্য গীত নাট্যসংস্থা, কাতলামারী আদিবাসী নাট্য দল, চৌদুয়ার মহিলা নাট্য দল, শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য শিশু কল্যাণ আশ্রম, স্বাধিকার মঞ্চ, বঙ্গীয় পারম্পরিক অভিকর শিল্পী সংঘ, কলাবতী মুদ্রা, পরম, সরস্বতী খন নাট্য সংস্থা, শিবশক্তি আদিবাসী লোকনৃত্য সংস্থা, নয়াপাড়া জংজারি মোর্শিয়া, সাউড়িয়া ঘোড়া নৃত্য সংস্থা, অমৃত বাউল ও লোকগান প্রসার সমিতি, টাঙ্গন লোক মঞ্চ, ফ্রেন্ডস অব আর্থ, জংজারি মোর্শিয়া, মাওরিয়া ঘোড়া নৃত্য সংস্থা, ভাষা ও চেতনা সমিতি, ফ্রেটারনিটি মুভমেন্ট পশ্চিমবঙ্গ, ঐকতান, পল্লিশ্রী মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটি, বৈষম্য বিরোধী মঞ্চ, মাটি, ঐকতান মিল্লি ইত্তেহাদ মজলিস, সর্বভারতীয় সিদ্দীকিয়া আমিনিয়া উলেমা পরিষদ, উপনিবেশিক বিরোধী কর্পোরেট বিরোধী চর্চা, এসআইও: পশ্চিমবঙ্গ, সলিডারিটি ইউথ মুভমেন্ট, পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী চেতনা সমিতি, অনন্য সাংস্কৃতিক অঙ্গন, চিত্রা ঘোষ মেমোরিয়াল রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, সংবিধান বাঁচা দেশ বাঁচাও মঞ্চ, জয়কিষান আন্দোলন, আদিবাসী সমাজ সুসার, লোকসংস্কৃতি ঝুমুর নাট্য দল, কনকটি বোরো কৃষ্টি আফাত, মনমোহিনী কলামুদ্রা, সাঁওতা চিরদেল আখড়া, আলোপৃথিবী, আবহমান, এবং সইকথা, কথকতা, বান্ধবনগর, আকিঞ্চন পত্রিকা, আদিবাসী জাগরণ (পত্রিকা), আদিবাসী নারী দিশারী (পত্রিকা), আদিবাসী হাতিয়ার (পত্রিকা), পশ্চিমবঙ্গ সাদরি ভাষা চেতনা পরিষদ, সারনা শিক্ষা মিশন, তফশিলী জাতি ও আদিবাসী সমিতি, সুন্দরবন আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, হরিণহোলা রিমঝিম আদিবাসী সাংস্কৃতিক সংস্থা, আদিবাসী মহিলা মহল (সাংস্কৃতিক সংগঠন), অখিল ভারতীয় রবিদাসিয়া ধর্ম সংগঠন, ট্রান্সফারড এরিয়া সূর্যাপুর অর্গানাইজেশন (TASO), উত্তরবঙ্গ অনগ্রসর মুসলিম সংগ্রাম সমিতি, বঙ্গীয় সংখ্যালঘু পরিষদ, শেরশাবাদিয়া বিকাশ পরিষদ (পশ্চিমবঙ্গ), চেতনা মঞ্চ প্রভৃতি ৬০টিরও বেশি সংগঠন ও সংস্থা।








