অগ্নিগর্ভ নেপাল, নিহত ২৩ জ্বলছে পার্লামেন্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা চাপে ওলি সরকার, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
নতুন পয়গাম, কাঠমান্ডু, ৮ সেপ্টেম্বর:
শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের পর এবার নেপাল। সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সোমবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পাহাড়ঘেরা ছোট্ট দেশ নেপাল। গত ৪ সেপ্টেম্বর সে দেশের সরকার একগুচ্ছ সোশ্যাল মিডিয়াকে নিষিদ্ধ করে। এরই প্রতিবাদে জনতার রোষ এতটাই আছড়ে পড়ে যে, সংসদ ভবনে ঢুকে রীতিমতো তাণ্ডব ও হাঙ্গামা চালায় তরুণ প্রজন্ম। দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ভবনে আগুনও লাগিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। এদিন সংসদ ভবন কার্যত বিদ্রোহীদের দখলে চলে যায়। প্রাণভয়ে পালিয়ে যায় নিরাপত্তারক্ষীরা। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনে ঢুকে হামলার জেরে বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি নষ্ট হয়েছে।
এমনিতেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও তার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তারওপর ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স-সহ মোট ২৬টা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করায় কার্যত আগুনে ঘি ঢালা হয়। সোমবার রাস্তায় নেমে সরকারের এই দমননীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে ওঠে ছাত্র-যুবসমাজ। জনতা পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। উত্তেজিত আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী নামানো হলে তারা লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, জলকামান প্রয়োগ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। তাই আপাতত রাজধানী শহর কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ও সেনার গুলিতে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছে। জখম হয়েছে প্রায় ৩৫০ জন।
দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে প্রশাসন। দুপুর বারোটা থেকে রাত দশটা অবধি কারফিউ জারি হয়েছে শহরে। পুরো ঘটনার সঙ্গে অনেকেই শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। তাহলে কি কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন ঘনিয়ে আসছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাক্ষে এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতোই পরিণতি হতে পারে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর। জানা গিয়েছে, নেপালিদের রোষের কারণ হল, দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগের প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নামছিল। সেই আন্দোলন যাতে বেশি দানা বাঁধতে না পারে, সেজন্য কৌশলে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা করে করেছিল প্রশাসন। এতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে আমজনতা।
উল্লেখ্য, রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে গত এপ্রিলে উত্তাল হয়ে উঠেছিল নেপাল। কড়া হাতে সেই আন্দোলন দমন করে কোনওরকমে গদি সামলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। তার পাঁচ মাসের মাথায় ফের কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল তাঁর সরকার। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি ও ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান করে আসলে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করছে। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। ড্যামেজ কন্ট্রোলে আপাতত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক ইস্তফা দিয়েছেন।








